শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগ

এস এম আববাস
১২ মার্চ ২০১৯, ১৭:৩৩ আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ১৭:৩৭

বিনামূল্যের পাঠ্যবই

জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের পাঠ্যবই কোচিং সেন্টারে বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।  বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে  শিক্ষা অফিসার আফরোজা বেগম  প্রতিবছর ২০ লাখ টাকা অবৈধভাবে আয় করছেন। শুধু তাই নয়,  তিনি ঘুষ ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠানকে পাঠ্যবই দেন না। এসব অভিযোগ করেছেন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা।

তবে শিক্ষকদের এই অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা অফিসার আফরোজা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সেসিপ (সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম)- এর প্রশিক্ষণে সব শিক্ষককে একসঙ্গে সুযোগ দেওয়া যায় না। এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের টাকা দেওয়া হয়।  এতে অংশ গ্রহণের সুযোগ করে দিতে না পারায় কিছু শিক্ষক আমার ওপর ক্ষুদ্ধ হয়েছেন। তারাই এসব করছেন।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে উপজেলার প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিক্রিসহ ১৭ দফা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, বিনামূল্যের পাঠ্যবই কোচিং সেন্টারের কাছে বিক্রি করে টাকা উপার্জন করেন সদরের শিক্ষা অফিসার। বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বই বিতরণের সময়   প্রতিটি  প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয় এছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রেও  নগদ টাকা ঘুষ নেন, অফিস না করে বাসায় বসে ফাইলে সই করেন তিনি।

শিক্ষা অফিসার আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, শীত ও গ্রীষ্মকালীন খেলাধুলা পরিচালনায়  সরকারের দেওয়া টাকা তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে রাখেন। বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণের সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবহন ব্যয় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে এবং এজন্য সরকারি টাকাও বরাদ্দ আছে।  অভিযোগ, জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ২০১৫ সালে পরিবহন খরচের বরাদ্দ এক লাখ ৫৪ হাজার ৪৮৪ টাকা কোনও প্রতিষ্ঠানকে দেননি।

মাউশির মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেছেন ওই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা।

কোচিং সেন্টারে টাকার বিনিময়ে বই বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে আফরোজা বেগম বলেন, ‘ওগুলো কোচিং সেন্টার হলেও তাদেরকে বই দেওয়ার অনুমোদন রয়েছে। কোচিং সেন্টারগুলোও    এখন সব স্কুল। তারা বই পায়। এজন্য তাদের কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগ মিথ্যা।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে জামালপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হেলিম ফকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা পাইনি। সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
এক বর্গকিলোমিটারের কম জায়গায় ৩০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চাপে আবাসিক জীবন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি শুরু, কোথায় কত দিন বন্ধ
একাদশে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনা
সর্বশেষ খবর
দেড় লাখ টাকা দিয়েও চেয়ারম্যান হতে পারেননি, ফাঁস করলেন সচিবসহ ছয়জনের নাম
দেড় লাখ টাকা দিয়েও চেয়ারম্যান হতে পারেননি, ফাঁস করলেন সচিবসহ ছয়জনের নাম
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন স্কেল বাস্তবায়নে ৩২৬৭ কোটি টাকা চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়
হ্যাকের শিকার ইউক্রেনের বিমান হামলার সতর্কতা অ্যাপ, ছড়ালো ভুয়া তথ্য
হ্যাকের শিকার ইউক্রেনের বিমান হামলার সতর্কতা অ্যাপ, ছড়ালো ভুয়া তথ্য
মুখে বরফ ঘষলেই ছোট হবে ওপেন পোরস, সত্যি নাকি মিথ?
মুখে বরফ ঘষলেই ছোট হবে ওপেন পোরস, সত্যি নাকি মিথ?
সর্বাধিক পঠিত
সঙ্গী খুঁজতে অবিবাহিতদের বিনামূল্যে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ
সঙ্গী খুঁজতে অবিবাহিতদের বিনামূল্যে ফিনল্যান্ড ভ্রমণের সুযোগ
৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী
৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন শেফালী
রণক্ষেত্র মিরপুর-১০
রণক্ষেত্র মিরপুর-১০
এইচএসসি পাস করলো জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, সমালোচনার মুখে কমিটি বিলুপ্ত
এইচএসসি পাস করলো জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলে, সমালোচনার মুখে কমিটি বিলুপ্ত
ঢাকার এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ‘জিপিএ-৫’ কুমিল্লা বোর্ডের সমান
ঢাকার এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ‘জিপিএ-৫’ কুমিল্লা বোর্ডের সমান