বাংলা বছরের প্রথম দিনে প্রতিবারের মতো এবারও বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। তবে এবার নাটমন্ডল মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজনে এসেছে ভিন্নতা। ‘সাংস্কৃতিক শিক্ষায় ডানা মেলুক শিকড়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবার এক ব্যতিক্রমধর্মী উৎসবের আয়োজন করেছে ঢাবির এ বিভাগটি। এতে সহযোগিতা করেছে উত্তরণ ফাউন্ডেশন।
ব্যতিক্রমধর্মী এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল রিথিং বাংলাদেশের পরিকল্পনায় হিজড়া সম্প্রদায়ের সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা। এছাড়াও দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল বিভাগীয় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গীত ও নৃত্য এবং লোকগানের দল মাঠের বাঁশির সংগীত পরিবেশনা।
সকাল ৯টায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। এরপর খৈ-মুড়ি-পান্তা ভোজ চলে। ভোজন শেষে কয়েকজন হিজড়া সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড.আহমেদুল কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উত্তরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও পুলিশের ডিআইজি হাবিবুর রহমান এবং ঢাবির কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ইসরাফিল শাহীন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রায়হানুল ইসলাম আবির প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, যারা হিজড়া সম্প্রদায় আমরা তাদের ভালো চোখে দেখি না। তারাও যে মানুষ, তাদেরও যে মন আছে, আমরা তা বুঝতে চেষ্টা করি না। সৃষ্টিকর্তা চাইলে আমরাও তাদের মতো হতে পারতাম। তারা আমাদের সমাজের অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তারা পিছিয়ে থাকে না।
তিনি বলেন, এখানে পারফর্ম করেছেন এমন দুজন হিজড়া বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। এমন ঘটনা বিরল। তারা কাজ করতে পারে, আমাদের সমাজ তাদের কাজের সুযোগ দেয় না। যারা সমস্যা করে তারা সুযোগ না পেয়েই করে থাকে।
তিনি বলেন, সরকার তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে তাদেরকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমার ভাই, আমার বোন, কে গরিব কে ধনী, সেটা আমরা ভাবি না। মানবতার কথা বলি তখন বলি সবাই সমান। তেমনি হিজড়াদেরকে আলাদা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। সুযোগ পেলে তারা সবকিছু করে দেখাতে পারে।
আবু মো. দেলোয়ার হোসেন বিরল এ আয়োজনের জন্য থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমাদের অবহেলিত হিজড়া সম্প্রদায়কে নিজেদের উদ্যোগে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে বৈষম্যহীন সমাজ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
আয়োজন সম্পর্কে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমেদুল কবির বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ নাট্য পরিবেশনা বিষয়ক বিদ্যানুশীলনে সর্বদাই জাতিসত্তার গভীরে প্রোথিত শিকড়ের ডানা মেলার স্বপ্নে সচেতন থাকে। এবারের আয়োজনে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে হিজড়া সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য’। বিভাগের সকল আয়োজনের মুক্ত আবহে বহুজনের অংশগ্রহণ ঘটেছে। সকলের সহাবস্থানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আমরা বলতে চাই সম্প্রীতির আনন্দ আবাহনে আমাদের সকলের প্রাণে আবার আসুক জোয়ার।
শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর বিভাগের শিক্ষার্থীরা বৈশাখী গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানটি আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
নববর্ষের সব খবর পড়ুন:বর্ষবরণের রঙিন উৎসবের গল্প তাদের চোখে জানবে বিশ্ব
মঙ্গল শোভাযাত্রায় অনন্ত আকাশে মস্তক তোলার প্রত্যয়
সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে বর্ষবরণে যৌন হয়রানির মামলা
উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী
বর্ণাঢ্য আয়োজনে খাগড়াছড়িতে চলছে সাংগ্রাই উৎসব
নানা আয়োজনে দেশজুড়ে চলছে বর্ষবরণ
এ বছর হাইকোর্টে শুরু হতে পারে রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার শুনানি
মুক্তিযোদ্ধাদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
‘চেতনায় বাঙালি সংস্কৃতি, উগ্রবাদ নয় সম্প্রীতি’
বাংলা ট্রিবিউনে প্রতিবেদন: সিলেট পুলিশের সেই নির্দেশনা প্রত্যাহার
বাঙালির উৎসবে বৈশাখী সাজে বিদেশিরা
নারীর প্রতি সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে মীনা ট্রাস্টের বর্ষবরণ
কিছু মানুষ কি পাষণ্ড হয়ে উঠলো: সন্জীদা খাতুন
রাগালাপ দিয়ে শুরু ছায়ানটের বর্ষবরণ
আজ পহেলা বৈশাখ, বাঙালিয়ানায় গাঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন
পহেলা বৈশাখকে ঘিরে বাড়ছে পর্যটনের সম্ভাবনা
বর্ষবরণ ও বাংলাদেশ দেখতে আসছেন ১০ দেশের ২৬ সাংবাদিক
সিঙ্গা গ্রামে ভিন্ন আমেজে নববর্ষ
লোক সংস্কৃতিতে অবদানের জন্যে যশোরে তিনজনকে সম্মাননা
জনশক্তিকে মানবসম্পদে পরিণত করার তাগিদ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর








