বিগত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় ৫ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বর্ষসেরা রিপোর্টার নির্বাচিত করেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ। সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউনের স্টুডিওতে ‘বাংলা ট্রিবিউন-ওমর ফারুক বর্ষসেরা পুরস্কার’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। পুরষ্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী আমিনা আহমেদ এবং সম্পাদক জুলফিকার রাসেল।
পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন- বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার সালমান তারেক শাকিল, স্টাফ রিপোর্টার শাহেদ শফিক ও কক্সবাজার প্রতিনিধি আবদুল আজিজ। উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ, এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান মুন্নী সাহা ও বাংলা ট্রবিউনের প্রধান প্রতিবেদক উদিসা ইসলাম।
ওয়াজ মাহফিল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার সালমান তারেক শাকিল। তার প্রতিবেদনগুলো হলো, ‘ওয়াজ মাহফিল কি পেশায় পরিণত হচ্ছে?’, ‘আল্লাহ বলেন নো-নো, মুসা বলেন ইয়েস-ইয়েস’; ‘ওয়াজ মাহফিলের যত ধারা’; ‘ওয়াজ রাজনীতি একাকার’ ও ওয়াজ মাহফিল কীভাবে প্রভাব ফেলছে, শ্রোতা কি বাড়ছে? ১৯ মার্চ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসহ ব্যবস্থা নিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফাবা), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিভাগীয় কমিশনারদের চিঠি দেয়।
‘টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায় বিনিয়োগ লাগে না’ প্রতিবেদনটির জন্য দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনের কক্সবাজার প্রতিনিধি আবদুল আজিজ। ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
আর ‘ঢালচরের কান্না’ শিরোনামে ৬ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের জন্য তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্টাফ রিপোর্টার শাহেদ শফিক। এই প্রতিবেদনগুলো হচ্ছে- ‘ভূমিহারা মানুষের আশ্রয়ের আকুতি! (ভিডিও)’; ‘ভূমিহীনের চরে সাবেক সচিবের অট্টালিকা;’ ‘ভূমিহীন উচ্ছেদে ‘সরকারি’ কৌশল!’; ‘ঢালচরের কৃষকদের ধান যায় ‘লুটেরাদের’ গোলায়’; ‘ঢালচরই কি চরডেমপিয়ার?’ ও ‘ঢালচর নোয়াখালীর না ভোলার?’। ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনগুলোতে ভূমিহীনের চর দখল করে একজন সাবেক সচিবের অট্টালিকা তৈরি ও ভূমিহীন নির্যাতনের বিষয়ে বিস্তারিত উঠে এসেছে।
আগামী ২৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরষ্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট, সনদ ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হবে।
পুরস্কার পাওয়ার পর সালমান তারেক শাকিল তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘বাংলা ট্রিবিউন ওমর ফারুক বর্ষসেরা প্রতিবেদন পেয়ে নিজের কাজের প্রতি আরও বেশি চাপ অনুভব করছি। এই পুরস্কার আগামী দিনে আরও ভালো প্রতিবেদন করার ক্ষেত্রে উৎসাহ জোগাবে। বাংলা ট্রিবিউনের পাঠক, আমার সম্মানিত সহকর্মী, আমাদের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, প্রকাশক কাজী আনিস আহমেদ ও নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ ভাইকে আমার ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা। তাদের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় আমার এই প্রাপ্তি।’
আবদুল আজিজ বলেন, ‘কোনও প্রতিষ্ঠানে ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া মানে কাজের স্পৃহা আরও বেড়ে যাওয়া। তিন জন প্রতিবেদকের মধ্যে আমার স্থান দ্বিতীয় হওয়ায় খুবই ভালো লাগছে। এতে আমার কাজের গতি আরও বাড়বে। এর আগেও বাংলা ট্রিবিউন আমাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ছয় বার সেরা প্রতিবেদক হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। তবে এবারের পুরস্কারটি ব্যতিক্রম। অবশ্য সব পুরস্কারই আমার কাছে বড়। এভাবে কাজের মূল্যায়ন করায় বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল ও নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদসহ পুরো বাংলা ট্রিবিউন পরিবারকে ধন্যবাদ।’
শাহেদ শফিক বলেন, ‘বাংলা ট্রিবিউনের এই আয়োজন সত্যিই আমাকে আরও সাহস যুগিয়েছে। অনুপ্রাণিত করেছে। এমন পুরস্কার আরও ভালো ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। এই প্রতিবেদনের পুরো কৃতিত্ব শ্রদ্বেয় সম্পাদক জুলফিকার রাসেল ও নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদসহ বাংলা ট্রিবিউন সম্পাদনা পরিষদের। যাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এমন প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।’
উল্লেখ্য, সাংবাদিক এম ওমর ফারুক ২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল বাংলা ট্রিবিউনে কর্মরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরদিন ভোর সাড়ে তিনটার দিকে তিনি মারা যান। সে বছরই প্রয়াত রিপোর্টার ওমর ফারুক স্মরণে এই পুরস্কার চালু করা হয়।








