জাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:২২আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:৩৭

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিভাগের স্নাতকোত্তরের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিভাগে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিকার না পেয়ে ওই ছাত্রী ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

১৯ সেপ্টেম্বর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সানওয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে বিভাগীয় সভাপতি বরাবর যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা জানিয়েছেন, অভিযোগটি ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠানো হয়েছে।

ওই ছাত্রীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিভাগে গত এক বছর ধরে যৌন হয়রানির অভিযোগ করে লড়ে আসছিলেন তিনি। কোনও বিচার না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।  ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ২৬টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নেওয়া হয় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছাড় দিয়েছে। পরে দুপুরে তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।

লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী জানান, ২০১৮ সালে তিনি তার তৃতীয় পর্বের একটি কোর্সের মানোন্নয়ন পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য তিনি কোর্স শিক্ষক অভিযুক্ত সানওয়ার সিরাজের শরনাপন্ন হন। সেসময় ওই শিক্ষক ছাত্রীর ফোন নম্বর নেন এবং যেকোনও সমস্যায় যোগাযোগ করতে বলেন। পরদিন শিক্ষক নিজেই ওই ছাত্রীকে ফোন করে পরীক্ষা কেমন হলো তা জানতে চান। সেদিন রাতে শিক্ষক সানওয়ার সিরাজ ছাত্রীর ফেসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে তার সঙ্গে ঘোরাফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করে তার এ ধরনের আচরণে আমি বিস্মিত হই। পরবর্তীতে আমি বিভাগে গিয়ে তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল কিনা, তা জানতে চাই।  তিনি নিশ্চিত করেন, আইডি হ্যাক হয়নি। তিনি নিজেই ওসব মেসেজ পাঠিয়েছেন।’

ছাত্রী আরও বলেন, ‘ওই শিক্ষক আমার প্রতি তার শারীরিক আকর্ষণের কথা জানান। তিনি আমাকে তার সঙ্গে সময় কাটানো ও ঘোরাঘুরির প্রস্তাব দেন। তার এমন ধারাবাহিক আচরণে আমি খুব বিব্রত বোধ করি। ফলে বারবার ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভ করি। কিন্তু, তিনি অব্যাহতভাবে আমাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন।’

ওই ছাত্রী বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালে ওই শিক্ষক আমাকে জামা উপহার, রেস্টুরেন্টে খাওয়া, রাতে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ও স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার বাসায় রাত যাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি চরম আপত্তিকর কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দেন। ব্যর্থ হয়ে তিনি তার কোর্সে আমাকে কম নম্বর দেন। আমি তার ধারাবাহিক অত্যাচারে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। পরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হই।’

বিভাগে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিত এক সেমিনারে নিজের যৌন হয়রানির বিষয়টি উত্থাপন করায় বিভাগের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক সামসুন্নাহার খানম তার ওপর ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। ছাত্রীর অভিযোগ,  তৎকালীন সভাপতি ওই সেমিনারে তার বক্তব্যে বলেছেন, ‘এটি পাবলিক ফোরাম। একজন ছাত্রীর যে অভিযোগ, তা বিভাগের মানসম্মানের সঙ্গে জড়িত। তথ্য-প্রমাণসহ তাকে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। অন্যথায় আমি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবো।’ 

ওই ছাত্রী বলেন, ‘আমি যৌন হয়রানির তথ্য-প্রমাণ বিভাগের তৎকালীন সভাপতির কাছে হস্তান্তর করি। তিনি আমাকে সহানুভূতি জানিয়ে এসব ভুলে গিয়ে ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিতে বলেন। আর অভিযোগের গোপনীয়তা রক্ষা না করে তিনি বিষয়টি শিক্ষকদের মাঝে ছড়ান।’

এ বিষয়ে বিভাগের সদ্য সাবেক সভাপতি অধ্যাপক সামসুন্নাহার খানম বলেন, ‘আমাকে কোনও ধরনের লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। আমার নামে যা বলেছে, তা বানিয়ে বলছে। আমি আমার বক্তব্যে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলিনি। বরং তার কথা শোনার জন্য ওই সেমিনারের পরে তাকে খুঁজেছি, তার বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক সানওয়ার সিরাজের মন্তব্য জানতে বৃহস্পতিবার বিভাগে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। দুপুর ও বিকালে বিভাগে গিয়ে তার কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার ফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।

বিভাগের বর্তমান সভাপতি নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘আমি ১৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রটি হাতে পেয়েছি। সে কিছু তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করতে চেয়েছিল। পরবর্তীতে আমি ২৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে হস্তান্তর করি।’

এ বিষয়ে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের প্রধান নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আখতার বলেন, ‘অভিযোগপত্রটি পেয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই।’

/এনআই/
সম্পর্কিত
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ব্যাংক ও এমএফএসের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ 
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন নিলে শাস্তির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠান
সর্বশেষ খবর
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী