ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর এবং তার সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কে বা কারা ফুটেজসহ যন্ত্রাংশ গায়েব করলো, সে ব্যাপারে কোনও ধারণা নেই কর্তৃপক্ষের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হামলার আগেই পরিকল্পিতভাবে সিসিটিভির যন্ত্রপাতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে নুরের ওপর হামলা প্রসঙ্গে বলেন, ‘ডাকসুতে হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের খোঁজা হবে। হামলাকারীরা কেউ পার পাবে না। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কিন্তু কোথায় সেই ভিডিও ফুটেজ–এ প্রশ্নে সিসিটিভির যন্ত্রপাতি রাখার রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাকসুর কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হামলার আগেই ঘটনাস্থল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীর কক্ষে যাই। সেখান থেকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবনে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে ১৫-২০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখি রুমের দরজা খোলা।’ সে সময় নুরুল হকসহ আরও অনেকে আহত অবস্থায় ভিপির কক্ষের ভেতরে কাঁদছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, সিসিটিভি যন্ত্রাংশ না দেখতে পেয়ে প্রক্টরকে জানালে প্রক্টর তাকে লিখিতভাবে ডাকসুর প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করতে বলেন। পরে তিনি এবং ডাকসুর কর্মচারীরা নুরসহ আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে পাঠান। তিনি দাবি করেন, সিসিটিভির কক্ষের দরজা অটোলক দিয়ে আটকানো ছিল। দরজা ভেঙে দুর্বৃত্তরা সিসিটিভির যন্ত্রাংশ নিয়ে যায়।
যদিও ওইদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার সঙ্গে কর্মকর্তা আজাদের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘হামলার সময় এবং তার পরে অনেকটা সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য আমি ওই কক্ষের আশপাশেই ছিলাম। হামলাকারীরা ভিপি নুর ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর বাতি নিভিয়ে অতর্কিতে হামলা করে। হামলার একপর্যায়ে ভেতর থেকে আহতরা দরজা আটকে দিলে হামলাকারীরা কক্ষটি ভাঙার চেষ্টা করে। তখনও সিসিটিভি ফুটেজের কক্ষটি ভাঙা হয়নি।’
ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধি আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলাকারীরা শুধু ভিপি নুরের কক্ষটি ভাঙার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা ব্যর্থ হয়ে চলেও যায়। এরমধ্যে সেই সিসিটিভি ফুটেজ কখন কারা নিলো সেই তথ্য কেউ জানাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এসব নিয়ে যাওয়া একেবারেই সম্ভব না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাকসু প্রশাসনের এক ব্যক্তি হামলাকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘ঘটনার পরবর্তী সময়ে এসব যন্ত্রাদি সরানোর সুযোগ কম। হামলাকারীদের কেউ আগেই এসব সরিয়ে ফেলে থাকতে পারে।’
ঠিক কখন নিজ কক্ষ ত্যাগ করেছিলেন প্রশ্নে সঠিক সময় জানাতে না পারলেও ডাকসু কর্মকর্তা আজাদ বলেন, ‘যখন সঞ্জিত ও সাদ্দাম ভাই ডাকসুতে প্রবেশ করে, তখনই আমি দ্রুত প্রক্টর স্যারের অফিসে চলে যাই। সেখান থেকে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে আবারও ঘটনাস্থলে ফিরে এসে আমি সিসিটিভির যন্ত্রাংশ পাইনি।’
সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আজাদ আমাকে কখন জানিয়েছেন, সেই সময়টা আমার এখন মনে নেই। কিন্তু যখন তিনি আমাকে জানান তখনই তাকে লিখিতভাবে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষকে জানাতে পরামর্শ দিয়েছি। পরে আহতদের উদ্ধারের পর ভিপির কক্ষ এবং সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণকক্ষটি সিলগালা করে দিতে বলেছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধারের বিষয়ে আমাদের কোনও আশাও নেই, হতাশাও নেই। এটি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করছি।’
উল্লেখ্য, ডাকসু ভবনের বাইরে এবং ভেতরে মিলে মোট নয়টি সিসি ক্যামেরা আছে। ক্যামেরার ফুটেজগুলো ধারণ করা হতো ডাকসুর কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের কক্ষে। সেই কক্ষে একটি মনিটর এবং একটি সিপিইউ ছিল। হামলার ঘটনার পরপর তিনি দাবি করেন, সেসব কারা যেন নিয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার দুপুরে ডাকসু ভবনে নিজ কক্ষে ভিপি নুরুল হক নুর ও তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়ে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপর গায়েব হয়ে গেছে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ। কারা এই ফুটেজ নিয়ে গেছে প্রশাসনসহ কেউই বলতে পারছেন না। হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগ এবং মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ ভিপি নুরের। তবে প্রথম দিন থেকেই ছাত্রলীগ হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। এ ঘটনার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
‘ডাকসু ভবনে হামলার দায় নেবে না মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করলো পুলিশ
ঢাকসু ভবনে হামলা: আহত ফারাবি লাইফ সাপোর্টে








