সোয়া শ’ কোটি টাকার মালিক তাপস, ইশরাকের সাড়ে ৫ কোটি

এমরান হোসাইন শেখ
০২ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৩১আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৫৫







ফজলে নূর তাপস ও ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের বার্ষিক আয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদও প্রায় সোয়া শ’কোটি টাকা। অপরদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বার্ষিক আয় কোটি টাকারও কম। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ৫ কোটি টাকার মতো। ইশরাক দুর্নীতির মামলাতেও অভিযুক্ত।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনই শিক্ষাগত যোগ্যতা ‘স্ব-শিক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আছেন হত্যা মামলার আসামি, বছরে এক টাকাও আয় নেই এমন প্রার্থীও।
ঢাকার দুই সিটিতে মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামায় স্বেচ্ছায় সম্পদ ও দায়-দেনার বিবরণ দিয়েছেন প্রার্থীরা। এতে আরও দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় দলগুলোর প্রার্থীরা অন্য প্রার্থীদের তুলনায় উচ্চশিক্ষিত ও সম্পদশালী।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন বলেন, হলফনামায় কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য গোপন করেন বা অসত্য তথ্য প্রদান করেন তাহলে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের নিয়ম রয়েছে। এছাড়া আমরাই জনগণের জানার সুবিধার্থে নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থীর হলফনামা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবো।
শেখ ফজলে নূর তাপস:
আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস পেশায় আইনজীবী। তিনি ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রিধারী। তার বার্ষিক আয় ৯ কোটি ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে বছরে আয় ৩৫ হাজার টাকা, বাড়ি/দোকান ভাড়া বাবদ ৪২ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৮ টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে ৭ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৪৮ টাকা, আইন পেশা থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার এবং চাকরি থেকে বেতন বাবদ পান বাবদ ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় দুই কোটি ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯২ টাকা।
তাপসের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১২২ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১০৮ কোটি ৯০ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৩ টাকা। তার হাতে নগদ টাকা রয়েছে ২৬ কোটি ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা। অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৫৩ লাখ ৭৭ হাজার ২০৭ টাকা, কোম্পানির শেয়ার ৪৩ কোটি ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪০৪ টাকা এবং পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত ৩৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর বাইরে রয়েছে তার স্থাবর সম্পত্তি। এর মধ্যে কৃষি জমি ১০ দশমিক ৫০ কাঠা, অকৃষি জমি ১০ কাঠা যার মূল্য ৩৮ লাখ ১৯ হাজার ৫০ টাকা, ৮ কোটি ৩৭ লাখ ২০ হাজার ৩১৩ টাকা মূল্যের মতিঝিল, পূর্বাচল ও সাভারে তিনটি দালান রয়েছে। তার একটি বাড়ি রয়েছে যার মূল্য ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৪ টাকা। হলফনামায় শেখ ফজলে নূর তাপস তার স্ত্রীর আয় ও সম্পদেরও বিবরণ দিয়েছেন।
শেখ ফজলে নূর তাপসের দায়-দেনা রয়েছে। তিনি অগ্রিম বাড়িভাড়া বাবদ ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৫০ টাকা নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনও মামলা নেই। তবে ২০০২ সালে দুদক আইনে ও ২০০৩ সালে শ্রম আদালতে তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছিল। দুটি মামলাই হাইকোর্ট বিভাগ বাতিল বা খারিজ করে দিয়েছেন।

ইশরাক হোসেন:
বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অপরাধে একটি মামলা ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এ বিচারাধীন রয়েছে। এমএসসি ডিগ্রিধারী ইশরাক হোসেন চারটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। এছাড়া ডায়নামিক স্টিল কমপ্লেক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার। তার বার্ষিক আয় ৯১ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকা। আয়ের উৎসের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লভ্যাংশ বাবদ ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৩৮৯ টাকা, চাকরি থেকে ৩৫ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৬ টাকা ও ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ২৪ টাকা। ইশরাক হোসেনের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৯৮ লাখ ২ হাজার ৭২ টাকা ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭৮ লাখ ৫১ হাজার ৫২৪ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নগদ ৩৩ হাজার ১০৯ টাকা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ার বাবদ ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৮ হাজার ৬৩ টাকা। তার দায়দেনার পরিমাণ ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৪৩ টাকা। এর মধ্যে মা ইসমত আরার কাছ থেকে ৬১ লাখ ৩৭ হাজার ২২২ টাকা নিয়েছেন। বাকি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন।
হাজী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন:
জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অতীতে কোনও মামলা ছিল না, বর্তমানেও নেই। তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩ হাজার ৪৩ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি/দোকান/অন্যান্য ভাড়া ৬৩ লাখ ৭২ হাজার ৮৫৮ টাকা ও ব্যবসা থেকে আয় ৭২ লাখ ৩০ হাজার ১৮৫ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে- নগদ ৫৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ৬৯ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৯ টাকার বিমা, একটি গাড়ি যার মূল্য ১৭ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র। তার অকৃষি জমি, দালান ও বাড়িও রয়েছে। সাইফুদ্দিনের ঋণ রয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ঋণ আছে দুই কোটি টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্ব-শিক্ষিত উল্লেখ করেছেন তিনি।
আব্দুর রহমান:
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান স্ব-শিক্ষিত। পেশায় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা নেই, তবে অতীতে দুটি মামলা হলেও তা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ৫৮ লাখ ৫২ হাজার ৯২ টাকা, আছে ৮৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ কৃষি জমি, চার তলা একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি।
আব্দুস সামাদ:
গণফ্রন্টের প্রার্থী আব্দুস সামাদ সুজন এইচএসসি পাশ। তার বিরুদ্ধেও মামলা নেই। পেশায় রাজনীতিবিদ ও একটি পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৩ বিঘা জমি; যার দাম ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া এক লাখ টাকা মূল্যমানের আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী রয়েছে তার।
মো.বাহারানে সুলতান বাহার:
ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মো.বাহারানে সুলতান বাহারের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যার অভিযোগসহ দুটি মামলা। দুটি মামলাই বিচারাধীন। নিজেকে স্বশিক্ষিত উল্লেখ করা এ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আগেও তিনটি মামলা ছিল; যা থেকে খালাস পেয়েছেন। ক্ষুদ্রশিল্প ব্যবসায়ী বাহারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাব ও ইলেকট্রিক পণ্য এক লাখ টাকা। এ প্রার্থীর দায়-দেনা ও ঋণ নেই।
মো.আখতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ:
বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো.আখতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ বিএ পাস। হলফনামা অনুযায়ী তার কোনও আয় নেই। তবে নগদ টাকা আছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১৫০ মার্কিন ডলার, ব্যাংকে রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার নামে মামলা ও দায় দেনা নেই।

আরও পড়ুন:
সম্পদ কমেছে আতিকের, বেড়েছে স্ত্রীর 


তাবিথের ৫ বছরে আয় বেড়েছে তিনগুণ

মেয়র প্রার্থী আয়াতুল্লাহর আয় নেই

 

/টিএন/
সম্পর্কিত
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
কদমতলীতে ইন্টারনেট সার্ভিসের ৩ কর্মীকে মারধর
মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ঢাকায়, কমতে পারে গরম
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম