নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার বলেছেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আসলেই বাংলা ভাষা সম্প্রসারণের জন্য আমরা নানা কথা বলি। কিন্তু সারাবছর সেই উদ্যোগ আর দেখা যায় না। আমাদের জীবনে আমরা বাংলাকে যে কত অবহেলা করেছি, তার অনেক নজির আপনারা দেখতে পাবেন। দেশে বাংলা ভাষার এমন অবস্থা যে, এখন বিয়েরকার্ডও ইংরেজিতে ছাপা হয়।’
সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অমর একুশের স্মরণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘একুশের গান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস।
রামেন্দু মজুমদার আরও বলেন, ‘দেশের আইনের ভাষা এমন কঠিন করে রাখা হয়েছে এবং বেশিরভাগ বিচারক বিচারের রায় দেন ইংরেজিতে; যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য দুর্বোধ্য। আমরা চাই আইনের সকল ক্ষেত্রে সহজ সাবলীল বাংলা ভাষা ব্যবহার হোক, যাতে করে সবাই বুঝতে পারে। গণমাধ্যমে বিশেষ করে কয়েকটি এফএম রেডিওতে বাংলা ভাষাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়। সেগুলো যদি বন্ধ না হয় তাহলে সাধারণ মানুষ কোথা থেকে প্রমিত বাংলা শিখবে?’
সভাপতির বক্তব্যে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘‘একমাত্র বিদেশে যোগাযোগ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ সকল ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্তশাসিত সকল কর্মকাণ্ডে বাংলা ভাষার ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, আমাদের মহামান্য আদালত সংবিধান লঙ্ঘন করে, বিদেশি ভাষায় রায় প্রদান করে চলছেন, বিচারকার্য পরিচালনা করছেন।’’
অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ও দেশের গান পরিবেশন করেন বহ্নিশিখা শিল্পগোষ্ঠীর শিল্পীরা এবং একুশের ঘোষণা পাঠ করেন ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু। সেখানে অন্যান্যদের মধ্যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, সহ-সভাপতি ঝুমা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শুরুতে শহীদ মিনারের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।









