যেভাবে কমবে তামাকের ব্যবহার

বাহাউদ্দিন ইমরান
২৩ এপ্রিল ২০২১, ০০:৫০আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১৪:৩২

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তামাকের ব্যবহারকে বড় বাধা মনে করছে সরকার। প্রয়োজনীয় কর বিধির সংস্কারের অভাবে অবাধে বাড়ছে তামাক ও এ জাতীয় পণ্যের ব্যবহার। এ কারণে কর বিধির সংস্কারে জোর দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

২০৪০ সালের আগেই তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল।

পাশাপাশি তামাকের ব্যবহার কমাতে কর বাড়ানোসহ বেশকিছু প্রস্তাবও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং। ইতোমধ্যে তারা তামাকের কর বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পৃথক তিনটি চিঠি দিয়েছে।

বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং-এর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তামাকের নিয়ন্ত্রণ কমাতে করের হার বাড়ানো প্রয়োজন। কর কাঠামো ঠিক না হওয়ায় কোম্পানিগুলো দিন দিন লাভবান হচ্ছে। অন্যদিকে যুবসমাজও ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ কারণে কর বাড়াতে আমরা ইতোমধ্যে তিনটি দফতরে চিঠি দিয়েছি।

সামাজিক সংগঠন ভয়েস ফর ইন্টার-অ্যাকটিভ চয়েস অ্যান্ড ইমপাওয়ারমেন্ট (ভয়েস)-এর প্রোগ্রাম অফিসার গুলশান আরা ঝুমুর বলেন, ‘তামাক পণ্যের ক্ষেত্রে করের সিংহভাগই প্রদান করেন ভোক্তারা। তামাক কোম্পানিগুলো সরকারকে তিনভাবে কর দেয়। প্রথমত, কোম্পানির নিজেস্ব আয় থেকে প্রত্যক্ষ কর, কাস্টম ডিউটি এবং সম্পূরক শুল্ক। এখানে কাস্টম ডিউটি পরোক্ষ কর। এই করের বোঝা তামাক কোম্পানি ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেয়। তাই পরোক্ষভাবে ক্রেতারা যে কর সরকারকে প্রদান করছে তা অন্য কোনও উপকারী পণ্য কিনেও দিতে পারে। তাই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আগামী বাজেটে তামাকের ওপর কর বাড়িয়ে এর ব্যবহার কমাতে সবাইকে একযোগে কাজ করার দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে রাষ্ট্রের। সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধনকে রাষ্ট্র অন্যতম প্রাথমিক কর্তব্য বলে গণ্য করবে এবং বিশেষত আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতীত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্যহানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

কিন্তু বেশকিছু কারণে তামাকের ভয়াবহ ব্যবহার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তামাকপণ্যের ধরন (সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুল), বৈশিষ্ট্য (ফিল্টার ও নন-ফিল্টার বিড়ি) এবং ব্রান্ড (সিগারেটের চারটি স্তর) ভেদে ভিত্তিমূল্য ও কর হারে ব্যাপক পার্থক্য আছে। বাজারে অত্যন্ত সস্তা ও সহজলভ্য কমদামি সিগারেট থাকাটাও প্রধান প্রতিবন্ধকতা।

তামাকের ব্যবহার কমাতে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) জানায়, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সকল তামাকপণ্যের ওপর চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের স্তরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক প্রচলন করা জরুরি। এতে করে দেশজুড়ে সিগারেটের ব্যবহার ১৫.১% থেকে হ্রাস পেয়ে ১৪.১% হবে। প্রায় ১১ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবে এবং ৮ লক্ষাধিক তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার বর্তমান ধূমপায়ী এবং ৪ লাখ তরুণের অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে এবং ভ্যাট বাবদ ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তামাক নিয়ন্ত্রণে করের হার বাড়ানো ভালো উদ্যোগ হবে বলে মনে করি। তবে যারা নেশাগ্রস্ত, তারা দাম বাড়লেও যেকোনও ভাবে সংগ্রহ করার চেষ্টা করবে। তাই আইনেরও যথাযথ প্রয়োগও দরকার।’

/এফএ/
সম্পর্কিত
তামাক পণ্য:  প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা
প্রস্তাবিত বাজেট তামাকমুক্ত বাংলাদেশের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক: বিটিসিএর উদ্বেগ
বাড়ছে সিগারেটের দাম
সর্বশেষ খবর
বিধানসভা নির্বাচনের পর সীমান্তে ৩৬টি ‘পুশইন’ চেষ্টা ঠেকিয়েছে বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 
বিধানসভা নির্বাচনের পর সীমান্তে ৩৬টি ‘পুশইন’ চেষ্টা ঠেকিয়েছে বিজিবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 
৬ মিনিটেই নেভেসের হেডারে এগিয়ে পর্তুগাল
৬ মিনিটেই নেভেসের হেডারে এগিয়ে পর্তুগাল
পাবনায় ১৬০০ ছাড়িয়েছে সমকামী, ১৬ জন এইডসে আক্রান্ত
পাবনায় ১৬০০ ছাড়িয়েছে সমকামী, ১৬ জন এইডসে আক্রান্ত
মেসি কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন  
মেসি কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন  
সর্বাধিক পঠিত
সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
সংসদে বাংলা-ইংরেজি মিশিয়ে নারী এমপির বক্তব্য, সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা
‘বাক্সের কাঁকড়া’: যে কারণে নিজের পরিবারই আপনার উন্নতিতে অখুশি!
‘বাক্সের কাঁকড়া’: যে কারণে নিজের পরিবারই আপনার উন্নতিতে অখুশি!
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়লো সভামঞ্চের প্যান্ডেল
প্রধানমন্ত্রী পৌঁছানোর আগেই ভেঙে পড়লো সভামঞ্চের প্যান্ডেল
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক
ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দাবির সঙ্গে একমত গভর্নর
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দাবির সঙ্গে একমত গভর্নর