X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

‘কম দামেই’ গরু ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২১, ১৯:৫৭

রাত পোহালেই ঈদ। রাজধানী ঢাকার কোরবানির পশুর হাটগুলোতে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনায় ব্যস্ত ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে দাম নিয়ে হতাশা বিক্রেতাদের কণ্ঠে। তারা বলছেন, হাটে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও সে অনুযায়ী ক্রেতা নেই, যারা আসছেন তারাও দাম বলছেন কম। ফলে বাধ্য হয়ে ‘কম দামেই’ গরু বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। আবার অনেকেই আর্থিক ক্ষতি কমাতে পশু ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে নগরীর কোরবানির পশুর বিভিন্ন হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকালে শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, হাটের নির্ধারিত এলাকা ছাড়িয়ে আশপাশের মানুষের বাসাবাড়ির সামনেও গরু বাঁধা হয়েছে। বৃষ্টিতে পুরো হাট এলাকা কাঁদামাটি আর পশুর মলমূত্রে একাকার হয়ে গেছে। হাটে বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতাদের তেমন দেখা নেই। হাটের কন্ট্রোল রুমের মাইকে বারবার ঘোষণা দিয়ে বলা হচ্ছে, হাটে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শেষ পর্যন্ত পশু কেনার জন্য ক্রেতাদের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ঝিনাইদহ থেকে গরু নিয়ে এসেছেন সিরাজ মিয়া। তিনি বলেন, গত ১৫ জুলাই বড়-ছোট মিলিয়ে ১৬টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। এরমধ্যে ১০টি গরু বিক্রি হয়েছে। সেগুলোতেও প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম পাননি। তাতে যা আয় হয়েছে তা দিয়ে গরু লালন-পালনের ব্যয়ও উঠবে না বলে দাবি করেন তিনি। আর বাকি ছয়টি গরু নিয়ে তখনও অপেক্ষায় রয়েছেন। ভালো দাম না পেলে গরু নিয়ে বাড়িতে চলে যাবেন বলেও জানালেন তিনি। হাটে যে অল্প পরিমাণ ক্রেতা আছে তাতে বাকি গরুগুলো বিক্রি নিয়ে আশঙ্কাও রয়েছে তার মনে।

মেরাদিয়া হাটে আসা গরু ব্যবসায়ী আকবর আলী বলেন, ১২টি গরু নিয়ে এসেছি। কিন্তু ক্রেতারা পর্যাপ্ত দাম বলছেন না। এরমধ্যে ছয়টি গরু বিক্রি হয়েছে, আশা করছি বাকি ছয়টিও বিক্রি হবে। কিন্তু দাম তো পাচ্ছি না। যেই গরু গ্রামের বাড়ি থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে এনেছি, সেটি এখনে ৭০ হাজার টাকার বেশি বলছে না। প্রথম দুই দিন যে দাম দেখেছি আজ সেই দামও নেই।

তিনি আরও বলেন, গেলো দুই বছর গরু নিয়ে যে পরিমাণ কাড়াকাড়ি ছিল, এ বছর তার উল্টোটা দেখা গেছে। কারণ, দেশে পর্যাপ্ত গরু রয়েছে। করোনাকালে মানুষ বাড়িতে গরু মহিষ পালন করতে পেরেছে। ট্রাকের পাশাপাশি ট্রেনেও গরু এসেছে। আগের মতো কোথাও তেমন কোনও চাঁদাবাজি হয়নি। সেজন্য পশুরও সংকট নেই এবার। সেই তুলনায় এ বছর ক্রেতা সংকট রয়েছে। করোনার কারণে মানুষের কাছে টাকা-পয়সা নেই। অনেকেই কোরবানি দিচ্ছেন না। যারা অন্য বছর বড় গরু দিয়ে কোরবানি দিতো তারা এ বছর ছোট গরু দিয়ে দিচ্ছে। আবার অনেকেই ছাগল দিয়েই শেষ করছে।

বনশ্রীর বাসিন্দা হাজী আশরাফুল ইসলাম মেরাদিয়া হাট ঘুরে এসে আফতাবনগর হাট থেকে একটি গরু কিনেছেন। মাঝারি আকারের একটি গরুর দাম পড়েছে ৭০ হাজার টাকা। এতে তিনি যেমন খুশি, তার বিক্রেতাকেও খুশি দেখা গেছে।

আশরাফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমি চাই না কোনও খামারি বা কৃষক তার গরুটি কম দামে বিক্রি করুক। তারাও যেন যথাযথ দাম পায় সেদিকেই আমাদের ক্রেতাদের খেয়াল রাখা উচিত। কারণ, তারা খুশি থাকলে আল্লাহও খুশি থাকবেন।

উত্তর সিটি করপোরেশনের রূপনগর হাট ঘুরে এসেছেন সাংবাদিক রুমানা জামান। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অনেক কম দামেই এই হাটে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। অনেকেই দাম না পাওয়ায় বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

এর কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, করোনার কারণে অনেক মানুষ এ বছর কোরবানি দিচ্ছেন না। আবার অনেকেই যারা বড় গরু দিয়ে কোরবানি দেন তারাও এবার ছোট গরু দিচ্ছেন। হাটে পর্যাপ্ত গরু থাকলেও ক্রেতা নেই। তাছাড়া দীর্ঘ ছুটি পাওয়ায় অনেক কোরবানিদাতা এবার গ্রামে চলে গেছেন। তারা গ্রামেই কোরবানি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

/ইউএস/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
মা ও ২ সন্তানকে গলা কেটে হত্যা
মা ও ২ সন্তানকে গলা কেটে হত্যা
ডনবাসের পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত জটিল’: জেলেনস্কি
ডনবাসের পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত জটিল’: জেলেনস্কি
বৈশ্বিক সংকটেও বেশ ভালো আছে বাংলাদেশ
বৈশ্বিক সংকটেও বেশ ভালো আছে বাংলাদেশ
দেশে ফিরলেন ভারতে পাচার হওয়া ৫ তরুণী
দেশে ফিরলেন ভারতে পাচার হওয়া ৫ তরুণী
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত