অনলাইন গেমিং বা জুয়া খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের জন্য ফ্রিলান্সিং সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সিআইডির মালিবাগ সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।
অনলাইনে জুয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানানো হয়। রাজধানীর কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন– তোফায়েল ইসলাম রাসেল (২৭), শাকিল খান (৩৫), মো. পারভেজ (২৪), মো. সাগর (৩০), জিয়াউল হক রনি (৩৯)।
অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতার রাসেল মূলত বাংলাদেশে এই অনলাইন গেমসের এজেন্ট। অনলাইন গেমিংয়ের জন্য যখন ডলার কেনা হয় তখন একটি নম্বর ও পিনকোড পান গ্রাহকরা। কেবল একটি পাসওয়ার্ড থাকে। ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা ঢুকতে পারেন ওয়েবসাইটে। টাকা পাঠানোর জন্য বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটগুলোকে কিনে নেওয়া হচ্ছে এবং অভিনব কায়দায় টাকা পাচারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমরা এসব সক্রিয় ওয়েবসাইটগুলোর প্রতি নজর রাখছি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‘গ্রেফতার পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। টাকা পাঠানোর জন্য যেসব এজেন্ট রয়েছেন তাদের আমরা গ্রেফতারের আওতায় নিয়ে আসবো। এক বছরের বেশি সময় ধরে তারা এ ধরনের গেমিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে আসছিলেন।
‘গ্রেফতার রাসেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। কোন ব্যবহারকারী কত টাকা দিয়ে ইউজার আইডি নিয়েছে তা এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। রাসেল মূলত ইউজার সৃষ্টি করে দিতেন। অনলাইন গেমিংয়ের যে অংশে তার পদচারণা ছিল সেখানে গ্রাহকসংখ্যা বাংলাদেশির সংখ্যাই ছয় থেকে সাত হাজার। এটি এতই ভয়াবহ যে, একটি স্মার্টফোন থাকলেই যে কেউ এই ইউজার আইডি ব্যবহার করে গেমিংয়ে যুক্ত হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এসব গ্রুপ থেকে কোনও স্ক্রিনশট নেওয়া সম্ভব হয় না, কারণ স্ক্রিনশট রেস্ট্রিক্টেড রাখা হয়েছে। টেকনিক্যাল লোকজন এখানে কাজ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
এর সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই কোনও কিছু বলতে চাই না। তবে বড় বিষয়, মুদ্রা পাচারের বিষয়টি। জুয়া খেলা সামাজিক অপরাধ, কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে জুয়ার আড়ালে পাচার হয়ে যাচ্ছে টাকা। এরকম গ্রুপ আরও হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে ফ্রিল্যান্স মাধ্যমে যাদের টাকা আছে তারা ভুক্তভোগী হবেন। এ ধরনের পাঁচ শতাধিক ওয়েবসাইট সক্রিয় আছে।’









