ফেসবুকে অসুস্থ ও দুস্থ ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে সাহায্যের নামে প্রতারণার করে আসছিল এক সাইবার প্রতারক। গত দুই মাসে প্রতারণার মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ যশোর থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের ই-ফ্রড টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুরঞ্জনা সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম শাহরিয়ার আজম আকাশ। তার হেফাজত থেকে সাইবার প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি আইফোন, দুটি বাটন ফোন, একটি অ্যাপলের ম্যাকবুক এয়ার এবং ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘হেল্প ফর মাসুম, হেল্প ফর তাহমিদ’ (Help For Masum, Help For Tahmid)-সহ বেশ কয়েকটি পেজ থেকে অসুস্থ ব্যক্তি ও শিশুর ছবি পোস্ট করে সাহায্য চাওয়া হয়। যেখানে বিকাশ ও নগদ নম্বরও দেওয়া হয়। আর সাহায্য করতে না পারলেও পোস্টগুলো শেয়ার করতে আকুতি জানানো হয়। অনলাইন মনিটরিংয়ে এমন কয়েকটি পেজ নিয়ে কাজ শুরু করে সাইবার পুলিশ। এক পর্যায়ে ওই ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার (২ আগস্ট) যশোর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আকাশ ফিসিং লিংকের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুক আইডি হ্যাক করে। পরে হ্যাক করা আইডি থেকে অনেকগুলো পেজ খোলে। এরপর গুরুতর অসুস্থ ও অসহায় শিশুর ছবি পোস্ট করে সাহায্যের আবেদন করে। সে ‘ডলার’ ব্যবহার করে বুস্টিং করে, যাতে বেশি মানুষের কাছে তার বার্তাটি পৌঁছায়। সেসব পোস্ট দেখে অনেকেই তার দেওয়া বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠায়। এভাবে গত ২ মাসে প্রতারণার মাধমে সে প্রায় ১২ লাখের বেশি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তার হেফাজতে শতাধিক হ্যাককৃত ফেসবুক আইডি পাওয়া গেছে।
সুরঞ্জনা সাহা আরও জানান, সে অনেক দিন আগে থেকেই সাইবার অপরাধে জড়িত। এ ধরনের অপরাধের জন্য আগেও সে গ্রেফতার হয়েছিল। গত মে মাসে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। যশোরের কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।









