বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন।
সোমবার (১৫ আগস্ট) বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন চত্বরে স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শোক দিবসের দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এসময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। “মুজিব চিরঞ্জীব” মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন এবং কলকাতাস্থ বেকার গভ. হোস্টেলের “বঙ্গবন্ধু স্মৃতিকক্ষে” বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্যে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দুপুরে খাবারের আয়োজন করা হয় এতিমখানার দুস্থ ও অনাথ শিশুদের জন্য। বিকালে ‘বাংলাদেশ গ্যালারি’তে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একমিনিট নীরবতা পালনের পর জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলকাতা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস সুর বলেন, দেশবাসীর প্রতি বঙ্গবন্ধুর এতটাই বিশ্বাস ছিল যে, তিনি নিজের জীবন নিয়ে সতর্ক বার্তাও গুরুত্ব দেননি।
পশ্চিমবঙ্গ পিএসসি’র সাবেক চেয়ারম্যান এবং পশ্চিমবঙ্গের রেডক্রসের সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ নুরুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থান করে নিয়েছে। বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত রুমে থাকতে পারাকে জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি হিসাবে বর্ণনা করেন তিনি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর সুরঞ্জন দাশ বঙ্গবন্ধুকে অভিহিত করেন উন্নয়নশীল বিশ্বের মুক্তির মহানায়ক হিসেবে।
সাবেক সংসদ ও বার অ্যাসোসিয়েশন কলকাতা’র সাবেক সভাপতি, সরদার আমজাদ আলী স্বাধীনতা যুদ্ধে “বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রাম সহায়ক সমিতি”র ভূমিকার বর্ণনা দেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা আলাপন বন্দোপাধ্যায় বলেন, ভাষিক জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র নির্মাণে করে দেখিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি ও পরিষদ বিষয়ক মন্ত্রী শ্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আশা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
সমাপনী বক্তব্যে উপ-হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস বলেন, ১৯৭৫ সালে বেঁচে গেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের উপর পরবর্তীতে ১৯ বার হামলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের দায়িত্বে ছিলেন কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) এবং দূতালয় প্রধান সিকদার মো. আশরাফুর রহমান।
সবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের সকল সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মাস্ক পরিধান করে এবং যথাযথ সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।









