X
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২
৯ আশ্বিন ১৪২৯

মানবাধিকার নিয়ে অপপ্রচার সম্পর্কে জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে জানালেন বিশিষ্টজনেরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৭ আগস্ট ২০২২, ২১:০২আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ২১:০২

সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ও চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাচেলেটকে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে অপপ্রচার সম্পর্কে অবহিত করেছেন সরকার, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিশিষ্টজনেরা। গতকাল রাতে ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাচেলেটের সম্মানে এক টাউন হল মিটিং ও নৈশভোজে জাতিসংঘের হাইকমিশনার বিশিষ্টজনদের সাথে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশের নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতির চিত্র ফুটে ওঠে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর বক্তৃতায়। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারবিরোধী কিছু চিহ্নিত ব্যক্তির তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু মানবাধিকার সংগঠন তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করছে- জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে এমন তথ্য দেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদl 

পররাষ্ট্র সচিব ড. মাসুদ বিন মোমেনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় পর্বে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ নানা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়ে উন্নয়নশীল বিশ্বে একটা মর্যাদার স্থানে পৌঁছেছেl বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সার্বিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবেl দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, বাংলাদেশ মোটামুটি একই রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছেl

নৈশভোজ পর্বে জাতিসংঘের হাইকমিশনারকে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে নানা অপপ্রচার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে জামিন দেওয়া না দেওয়া, বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার, সাংবাদিকদের এই আইনের বাইরে রাখা, এই আইনে প্রকৃত সাংবাদিকরা গ্রেফতার হচ্ছে কিনা- এই সকল বিষয়ের সাংবিধানিক ও আইনি ব্যাখ্যা দেন তিনি। ড. সেলিম জানান, বাংলাদেশে প্রচলিত বেশ কয়েকটি আইনে যৌক্তিক কারণেই বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতারের বিধান রয়েছে, অনেক আইনেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে জামিন না দেওয়ার বিধান রয়েছেl তবে উচ্চতর আদালত জামিন দিয়ে থাকেl সাংবাদিকসহ কোনও কমিউনিটিকে নির্দিষ্ট কোনও ফৌজদারি আইনের আওতার বাইরে রাখা সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের পরিপন্থীl তিনি জানান, বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি আইনে বহু বছর ধরেই এই ধরণের বিধান রয়েছেl যৌক্তিক কারণেই এই ধরণের বিধান রাখা হয়l ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সনদ, আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের বিধানাবলী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণl

তিনি জানান, এই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন রয়েছে— যে মামলাগুলো ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় বলে প্রচার করা হচ্ছে, এর প্রায় ৮০% মামলা বিএনপির আমলে প্রণীত আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার অধীন মামলা। শেখ হাসিনার সরকার এই ৫৭ ধারা বাতিল করেছেl আর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে মামলার কথা বলা হচ্ছে, তার প্রায় ৯০ শতাংশ মামলাই হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক কিছু ভুঁইফোড় বেআইনি নিউজ পোর্টালের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে, যারা মূলত নানা শ্রেণী-পেশার মানুষকে ব্ল্যাক-মেইলিংয়ের মাধ্যমে হয়রানি করে থাকেl

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুম বা ফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স সম্পর্কে যে অপপ্রচার চলছে, সেই বিষয়টি ড. সেলিম মাহমুদ জাতিসংঘ হাইকমিশনারের দৃষ্টিতে আনেনl তিনি জানান, মানবাধিকার রিপোর্টগুলোতে গুম সম্পর্কিত যে তথ্য দেওয়া হয়ে থাকে, একটু পর্যবেক্ষণ করলেই বুঝা যায় যে, এগুলো স্ববিরোধী ও বাস্তবতাবিবর্জিতl এই সব রিপোর্টে বলা হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা এই ফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের মূল ভিকটিমl কিন্তু সেই রিপোর্টে ভিকটিমদের যে সংখ্যা দেওয়া হয়, তাতে বুঝা যায় এই বক্তব্য স্ববিরোধী ও বাস্তবতাবিবর্জিতl তাদের বক্তব্য অনুযায়ী ভিকটিম রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী সমর্থক হয়ে থাকলে এই সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার কথাl পক্ষান্তরে ভিকটিমদের যে তালিকা দেওয়া হয়, সেখানে কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য কিংবা সমর্থক থাকে নাl তাতে বুঝা যায়, এই রিপোর্টগুলোতে যে তথ্য দেওয়া হয়, সেগুলো অসত্য ও স্ববিরোধীl ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে নানা কারণে কিছু ব্যক্তি প্রতিবছর নিখোঁজ হয়ে যায়l দেশের মোট জনসংখ্যার আকার বিবেচনা করলে নিখোঁজ হওয়া এই মানুষের সংখ্যাও কম হওয়ার কথা নয়। মূলত এই হারিয়ে যাওয়া লোকগুলোকেই এই তালিকায় আনা হয়ে থাকেl

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জাতি সংঘের হাইকমিশনারকে জানান, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কিছু মানবাধিকার সংগঠন সাম্প্রতিক সময়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করছে, তাতে দেখা যায়— এই সংগঠনগুলো যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করছে, সেগুলো সরকারবিরোধী কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে নেওয়া। কোনও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পক্ষপাত দোষে দুষ্ট কোনও সোর্স থেকে তথ্য নেওয়া সমীচীন নয়l এই সকল সংগঠনের রিপোর্টে যে ফুটনোট ব্যবহার করা হয়, তাতে দেখা যায় তারা কেবল সরকারবিরোধী সোর্স থেকে তথ্য নিচ্ছেl এই ধরণের পক্ষপাতদুষ্ট ও একপেশে রিপোর্ট সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়l এই ধরণের রিপোর্টের কোনও ক্রেডিবিলিটি থাকে নাl এই ধরণের কর্মকাণ্ড বিশ্বের দেশে দেশে মানবাধিকার সংরক্ষণে কী ভূমিকা রাখে, এটি সেই সকল সংগঠনই ভালো বলতে পারবেl

জাতিসংঘের হাইকমিশনের সাথে নৈশভোজ আলোচনায় অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন এমপি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকী এমপি, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখl

জাতিসংঘের হাইকমিশনারের সম্মানে দেওয়া নৈশভোজের পূর্বে মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন, সাবেক রাষ্ট্রদূত সমসের মবিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, নারীনেত্রী অ্যারোমা দত্ত, রোকেয়া কবির, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, অ্যাম্বাসেডর আব্দুল হান্নান, অ্যাম্বাসেডর শামীম আহসান, শিফা হাফিজা, প্রফেসর সাহাব আনাম খান প্রমুখl

অধিকাংশ বক্তা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেনl জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল বাচেলেট তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের সকল দেশের মানবাধিকার নিয়েই সমস্যা রয়েছেl আমি অনেক শক্তিশালী ও ধনী রাষ্ট্র দেখেছি, যাদের মানবাধিকার নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছেl একেকটি দেশের পরিস্থিতি একেক রকমেরl মানবাধিকার নিয়ে প্রতিটি দেশের অনেক কাজ করার আছেl

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রমুখl

/ইউআই/এমএস/
সম্পর্কিত
যুবককে ৩ দিন ধরে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
যুবককে ৩ দিন ধরে শিকলে বেঁধে নির্যাতন
মিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন
জাতিসংঘের বিবৃতিমিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন
‘সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কিছু বললে, মানুষ তাতে আস্থা রাখে না’
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী‘সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কিছু বললে, মানুষ তাতে আস্থা রাখে না’
মিশেলের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ নেই
মিশেলের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ নেই
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
এতদিন কোথায় ছিলেন রহিমা?
আ.লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে: প্রধানমন্ত্রী
আ.লীগ সব সময় জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় আসে: প্রধানমন্ত্রী
মহরতে স্মৃতিকাতর প্রযোজক অপু বিশ্বাস (ভিডিও)
মহরতে স্মৃতিকাতর প্রযোজক অপু বিশ্বাস (ভিডিও)
আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের শুরু
আজ মহালয়া, দেবীপক্ষের শুরু
এ বিভাগের সর্বশেষ
মিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন
জাতিসংঘের বিবৃতিমিশেল ব্যাচেলেট বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন
সাম্প্রদায়িক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: মানবাধিকার কমিশন
সাম্প্রদায়িক হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়: মানবাধিকার কমিশন
‘ডিপোতে রাসায়নিকে তথ্য অস্পষ্ট রাখা দায়িত্বে গাফিলতি’
‘ডিপোতে রাসায়নিকে তথ্য অস্পষ্ট রাখা দায়িত্বে গাফিলতি’
র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ মানবাধিকার কমিশনের
৪২ দিন গুম করে রাখার অভিযোগর‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ মানবাধিকার কমিশনের
শিশু অধিকারের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের চিত্র ছিল হতাশজনক
শিশু অধিকারের ক্ষেত্রে ২০২১ সালের চিত্র ছিল হতাশজনক