X
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩
১৭ মাঘ ১৪২৯

মানবতাবিরোধী অপরাধ: চট্টগ্রামের শওকাতুলের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৮ নভেম্বর ২০২২, ২১:১১আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ২১:১১

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সৈয়দ শওকাতুল ইসলাম ওরফে পাতলা ডাক্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক এম. সানাউল হক এ তথ্য জানিয়েছেন। এটি ছিল তদন্ত সংস্থার ৮৬তম প্রতিবেদন।

এর আগে, ২০১৯ সালের ৬ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। এরপর তিন বছর ৮ মাস ২০ দিন অনুসন্ধান শেষে ২০২২ সালের ২৬ নভেম্বর প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর প্রসিকিউশনের কাছে তা দাখিল করা হয়। সৈয়দ শওকাতুল ইসলাম ওরফে পাতলা ডাক্তার

মামলার আসামির বিরুদ্ধে ১০টি হত্যাকাণ্ডসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে ধর্ষণ, দেড় শতাধিক লোককে আটক-নির্যাতন এবং দুই শতাধিক বাড়ি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ আনা হয়েছ।

জানা গেছে, এই মামলায় দুজন আসামি ছিল। তাদের মধ্যে একজন করোনায় মারা গেছেন। তার নাম সৈয়দ ওমর ফারুক ওরফে সৈয়দ মো. ফারুক হায়াত। তিনি ২০২১ সালের ৮ মার্চ মারা গেছেন। তবে মামলার একমাত্র আসামি কারাগারেই আছে।

আসামির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ

এক. ১৯৭১ সালের ২ জুন সকাল অনুমান ৬টা থেকে সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আসামি রাজাকার শওকাতুল ইসলাম ওরফে পাতলা ডাক্তারসহ ১০/১৫ জন সশস্ত্র রাজাকার এবং ১০০/১৫০ জন পাকিস্তানি আর্মি চট্টগ্রাম জেলা সার্কিট হাউজের আর্মি ক্যাম্প হতে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন ১৪ নং নানুপর ইউনিয়নের নানুপুর সৈয়দপাড়া গ্রাম এবং মাইজভান্ডার আমতলী গ্রামের ওয়াইজ কাজী বাড়ি, সিকদার বাড়ি ও আমতলী বাজার এলাকায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে নানুপুর সৈয়দ পাড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মির্জা আবু আহম্মদের কোম্পানির ম্যানেজার হিরণ্য কুমার দত্ত বাবু ও ১৪ নং নানুপর ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নূর আহমদ, মির্জা আবু আহম্মদের ছেলে মির্জা মোহাম্মদ আকবর ও বোন সৈয়দা গুল চম্পা বেগম এবং তাদের প্রতিবেশী মুক্তিযোদ্ধা ইপিআর সুবেদারের স্ত্রী তাহেরা বেগমসহ প্রায় দুই শতাধিক লোককে আটক ও নির্যাতন করে।

এরপর আটককৃত হিরণ্য কুমার দত্ত বাবু ও চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুর আহম্মেদকে নানুপুর বিনাজুড়ি খালের পাড়ে নিয়ে সন্ধ্যা অনুমান সাড়ে ৫টায় গুলি করে হত্যা করে। এছাড়াও রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি আর্মিরা অস্ত্রের মুখে আটককৃত অন্যান্যদের ছেড়ে দিয়ে মির্জা মোহাম্মদ আকবর, সৈয়দা গুল চম্পা বেগম ও তাহেরা বেগমকে আটক ও অপহরণপূর্বক ওইদিন রাত অনুমান ৮টার দিকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস নিয়ে যায়। পরের দিন সকাল অনুমান ৯টায় তাদেরকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিয়ে আটক রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে মির্জা মোহাম্মদ আকবর ১৫ দিন পরে ছেড়ে দেয় এবং আটককৃত ভিকটিম সৈয়দা গুল চম্পা বেগম ও তাহেরা বেগমকে ২৬ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আটক রেখে নির্যাতন ও ধর্ষণ করে।

দুই. ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা হতে বেলা অনুমান ১টা পর্যন্ত আসামি রাজাকার শওকাতুল ইসলাম ওরফে পাতলা ডাক্তার ১৫/২০ জন রাজাকার নিয়ে  ৪০/৫০ জন পাকিস্তানি আর্মির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থক, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নিরীহ-নিরস্ত্র লোকদের আটক, নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম জেলার নাজিরহাটে তৎকালে স্থাপিত অস্থায়ী আর্মি ক্যাম্প হতে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন ১৪ নং নানুপর ইউনিয়নের মাইজভান্ডার আমতলী গ্রাম ও আমতলী বাজার এলাকা এবং ১৫ নং রোসাংগিরী ইউনিয়নের পূর্ব আজিমনগর গ্রামের শীল পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী সৈয়দ জসিম উদ্দিন, আব্দুস সালাম, মোহাম্মদ ইসহাক এবং হাজী নূর আহম্মেদকে অস্ত্রের মুখে আটক ও অপহরণ করে আজিমনগর শীল পাড়ায় নিয়ে যায়।

এরপর শীল পাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবেন্দ্র কুমার শীল, হেমেন্দ্র কুমার শীল, মোহন্ত কুমার শীলকে অস্ত্রের মুখে আটক ও নির্যাতনপূর্বক তাদের বাড়ির মালামাল লুটপাট করে। রাজাকার ও পাকিস্তানি আর্মিরা ইতোপূর্বে আকটকৃত সৈয়দ জসিম উদ্দিন, আব্দুস সালাম, ইসহাক ও হাজী নূর আহম্মদকে জনৈক রায় মোহন শীল ওরফে বোঁচা ডাক্তার (বর্তমানে মৃত)-এর বাড়ির উঠানে দাঁড় করিয়ে বেলা অনুমান সাড়ে ১২টায় সময় গুলি করলে হাজী নূর আহম্মদ ব্যতীত অপর ৩ জন ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ হাজী নূর আহম্মদ ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।

এছাড়াও আজিমনগর শীল পাড়ায় আটককৃত হেমেন্দ্র কুমার শীল, দেবেন্দ্র কুমার শীল ও মোহন্ত কুমার শীলদের বসতবাড়ির নিকটস্থ পুকুর পাড়ে দেবেন্দ্র কুমার শীলকে এবং অনুমান ৩০০ গজ দক্ষিণে আবাদী জমিতে হেমেন্দ্র কুমার শীল ও মোহন্ত কুমার শীলকে বেলা অনুমান ১টার সময় গুলি করে হত্যা করে উল্লেখিত পাকিস্তানি আর্মি ও রাজাকারেরা নাজিরহাট অস্থায়ী পাকিস্তানী আর্মি ক্যাম্পের দিকে চলে যায়।

তিন. ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর ভোর অনুমান ৪টা হতে সকাল ১১টা পর্যন্ত সময়ে আসামি রাজাকার শওকাতুল ইসলাম ওরফে পাতলা ডাক্তার ১০/১২ জন রাজাকার নিয়ে ৩০/৪০ জন পাকিস্তানি আর্মি স্বাধীনতাকামী হিন্দুদের ওপর চট্টগ্রাম জেলার নাজিরহাটে অস্থায়ী আর্মি ক্যাম্প হতে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন ১৪ নং নানুপর ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত মাইজভান্ডার সূত্রধর পাড়াসহ (সূতার পাড়া) আশপাশেরর এলাকায় অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে অনুমান ৩০/৩৫টি বাড়ির সমস্ত মালামাল লুটপাট করে ও অগ্নিসংযোগ করে।

এছাড়াও রাজাকার ও পাকিস্তানি আর্মিরা পলায়নরত গ্রামবাসীদের মধ্যে সূত্রধর পাড়ার নিকুঞ্জ সূত্রধর, অনিল চন্দ্র সূত্রধর, রনজীত সূত্রধর, কল্পনা সূত্রধর, কানন বালা সূত্রধর (বর্তমানে মৃত) এবং সূত্রধর পাড়ার লাগোয়া মাইজভান্ডার পাঠান পাড়ার আকবর খান ওরফে আবু, নজির আহম্মদ, মো. ফজল কাদেরদেরকে আটক করে। এরপর আটককৃতদের মধ্যে নিকুঞ্জ সূত্রধর ও অনিল চন্দ্ৰকে হত্যা করা হয়।

/বিআই/এমএস/
সর্বশেষ খবর
এক মাসে মেট্রোরেলে চড়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার যাত্রী
এক মাসে মেট্রোরেলে চড়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার যাত্রী
‘বাস্তবতার নিরিখে রাজধানীতে পাতাল রেল হচ্ছে’
‘বাস্তবতার নিরিখে রাজধানীতে পাতাল রেল হচ্ছে’
বিশ্বকাপ জয়ের পর ইন্সটাগ্রাম ব্লকড হয়েছিল মেসির!
বিশ্বকাপ জয়ের পর ইন্সটাগ্রাম ব্লকড হয়েছিল মেসির!
পাকিস্তানের মসজিদে পুলিশের ওপর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৭
পাকিস্তানের মসজিদে পুলিশের ওপর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৭
সর্বাধিক পঠিত
সংবাদ প্রকাশের পর কুমিল্লার হাইওয়ে হোটেলে অভিযান
সংবাদ প্রকাশের পর কুমিল্লার হাইওয়ে হোটেলে অভিযান
অভিনেত্রী আঁখির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক
অভিনেত্রী আঁখির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক
এনআইডি’র সঙ্গে সমন্বয় করে পাসপোর্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুপারিশ
এনআইডি’র সঙ্গে সমন্বয় করে পাসপোর্ট সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুপারিশ
এসআইবিএল থেকে মাহবুব-উল-আলমের পদত্যাগ
এসআইবিএল থেকে মাহবুব-উল-আলমের পদত্যাগ
আলাদা ইউনিট করে রাজউকই পূর্বাচলে নাগরিক সেবা দেবে
আলাদা ইউনিট করে রাজউকই পূর্বাচলে নাগরিক সেবা দেবে