সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মুয়াজ্জিন হাফেজ মাওলানা মোখলেছুর রহমানের (৪২) আজানের ধ্বনিতে রোজাদাররা রোজা ভঙ্গ করেন। আজান শেষ করে পাঁচ মিনিট পর তিনি যোগ দেন ইফতার আয়োজনে। এরপর মাগরিবের নামাজের ইকামত দিলে ইমাম সাহেব শুরু করেন সালাত।
এর আগে আছরের নামাজের পরপরই মসজিদের খাদেমকে সঙ্গে নিয়ে মোখলেছুর প্রতিদিনের মতো ১৫০ জনের ইফতার আয়োজন করেন মসজিদে। এর মধ্যে ছিল ছোলা, পেঁয়াজু, খেজুর, মুড়ি ও শরবত।
শনিবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার জামে মসজিদে সরেজমিন গেলে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। পুরো রমজানে এমন দৃশ্য দেখা যাবে বলে জানান।
মোখলেছুর রহমান ১৯৯৫ সালে হিফজুল কোরআন শেষ করেছেন ফরিদপুর শামসুল উলুম মাদ্রাসা থেকে। দাওরায়ে হাদিস শেষ করেন ২০০৪ সালে। একই বছর অল্প বেতনে একটি মসজিদে ইমামতি শুরু করেন।
পরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর পুবা মসজিদ, ধানমন্ডি ঈদগাহ জামে মসজিদ, কলাবাগান লেক সার্কাস মসজিদে ইমামতি করেন। বর্তমানে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজার জামে মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োজিত আছেন মোখলেছুর রহমান। ২০ বছর ধরে মসজিদে ইমামতি ও মুয়াজ্জিন পেশায় নিয়োজিত থেকে সেবা করে যাচ্ছেন হাজার হাজার মুসল্লির।
মোখলেছুর রহমানের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের আরিচাঘাট এলাকায়। সাত ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তারা সাত ভাই-বোনই হাফেজি পড়েছেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর কলাবাগানে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন তিনি।
তার বড় ছেলে মাহাম্মুদ জামিল (১২) ধানমন্ডি মসজিদুত তাকাওয়া সোসাইটিতে হেফজ বিভাগে লেখাপড়া করছে। মেজ মেয়ে মাশকুরা রহমান (১০) মানিকগঞ্জ জেলার একটি মাদ্রসায় হেফজ খানার শিক্ষার্থী।
মাওলানা মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা যারা মুয়াজ্জিন পেশায় নিয়োজিত আছি, খুব অল্প টাকায় মসজিদে কাজ করি। তবে শুধু টাকার জন্য কাজ করি না। মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করাই আমাদের প্রধান কাজ। সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনই মূল লক্ষ্য। ঢাকার বিভিন্ন মসজিদে যারা মুয়াজ্জিন পেশায় কাজ করেন, তারা তুলনামূলক ভালো আছেন। যারা গ্রামে মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োজিত আছেন, তাদের তো অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
একটি উদাহরণ টেনে মোখলেছুর বলেন, আমার এক চাচাতো ভাই গ্রামে একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সে প্রতি মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতন পায়। বর্তমানে এই টাকায় সংসারটা কীভাবে চলে! এমন হাজারো মুয়াজ্জিন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এসব কথা মুখ ফুটে কারো কাছে বলা হয় না।
আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি অনুরোধ করবো, সরকার যেন দেশের সব মুয়াজ্জিনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়। আমাদের বেতন-ভাতার আওতায় আনার বিষয়েটি যেন নিয়ে ভাবে।









