মুন্সিগঞ্জের সদরের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শাহ কামাল তুহিনের হত্যার বিচার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলন করেন তুহিনের পরিবারের সদস্যরা।
মানববন্ধনে নিহত তুহিনের মা বিউটি আক্তার বলেন, ‘আমার ছেলেকে ওরা (আসামিরা) নির্মমভাবে হত্যা করলো। ওদের গ্রেফতার করলো না। ওরা আগাম জামিন নিয়ে আমাদের সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আমার স্বামী, ছোট ছেলে, মেয়েকে হুমকি দেয়। বলে আমরা আদালতে গেলে ওরা (আসামিরা) আমাদের মেরে ফেলবে।’
নিহত তুহিনের অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া ছোট বোন আদুরি আলম মানববন্ধনে বলে, আমার বড় ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমার ভাই কোনও রাজনীতি করতো না। শুধু আমাদের এলাকার চেয়ারম্যানের সমর্থক ছিল বলে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। ওরা (আসামিরা) আমার ভাইকে মেরে তারপর আমার ছোট ভাইকে ফোন করে বলে যে তোর ভাইয়ের লাশ নিয়ে যা। পরে আমার ভাইকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে সেখানে ভাইয়ার মৃত্যু হয়। এ সময় আদুরি কেঁদে ওঠে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করে।
পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারী বলেন, আজহার মোল্লার নামে মুন্সিগঞ্জ ও টঙ্গীবাড়ী থানায় ১৭ থেকে ১৮টি মামলা আছে। তার কাজ হলো আধিপত্য বিস্তার করে সন্ত্রাসবাজী, চাঁদাবাজি করা। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা আছে। আজাহার মোল্লা ও তার সঙ্গীরা এলাকা মাদক ব্যবসা করে, মানুষের ওপর অত্যাচার করে। তুহিনের হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। আমি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার শাস্তি চাই।
এর আগে গত ১৩ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে টঙ্গীবাড়ি থানাধীন পুরা ডিসি উচ্চবিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের পেছনে পূর্ববিরোধের জেরে আজাহারের নির্দেশে ২৫ জন তুহিনকে সশস্ত্র আক্রমণ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তুহিনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে ল্যাব এইড হাসপাতালে পাঠালে ১৪ মার্চ তুহিন মৃত্যুবরণ করেন।
এরপর ১৮ মার্চ তুহিনের পরিবার আজাহার, বাবু কাজী, সিফাত সরদার, সানি সরদার, মাহমুদ উল্লাহ, কামাল কাজী, রানা, অনিক, দরবার খান, নুরুদ্দিন, আইনুদ্দিন খান, জাকির, নাজির, আমান উল্লাহ ও রহমত উল্লাহসহ ২৫ জনের নামে মামলা করে।









