এভিয়েশন হাব

সম্ভাবনা বাস্তবায়ন হবে এভিয়েশনবান্ধব নীতিতে

চৌধুরী আকবর হোসেন
১৩ মে ২০২৩, ১৫:৩৬আপডেট : ১৩ মে ২০২৩, ১৫:৩৬

সম্ভাবনা থাকলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের ভিন্ন খাতে উন্নয়ন হলেও এভিয়েশন খাত ছিল উপেক্ষিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এভিয়েশন খাতে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। শুধু তাই নয়, দেশের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে আকাশপথে যোগাযোগের হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক এভিয়েশন খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব করতে প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল সৃষ্টি, দেশি এয়ারলাইনগুলোকে নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। এভিয়েশন খাতবান্ধব নীতি হলে দেশের  এই খাত এগিয়ে যাবে, একই সঙ্গে অর্থনীতিতে গতি বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব তৈরি করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দেশের সব বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রধান বিমানবন্দর হলেও আন্তর্জাতিক কানেকটিভিটি বৃদ্ধির জন্য কক্সবাজার ও সিলেট বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা বিমানবন্দর সচল রাখতে সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে, আইএলএসসহ অন্যান্য বিষয়ের মান বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের পূর্বাঞ্চলের জন্য সিলেট বিমানবন্দর, দক্ষিণাঞ্চলের জন্য চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

নেপাল, ভুটান ও ভারতের সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও যাত্রীদের যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। অন্যদিকে দেশে বৃহৎ একটি বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য (বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বড় একটি নতুন বিমানবন্দর করতে গেলে অনেক বড় জায়গার প্রয়োজন, সে কারণে জায়গা নির্ধারণের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর (ফাইল ছবি)

ইতোমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ শেষের পথে। এ বছরের অক্টোবর থেকেই আংশিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনা বেবিচকের। আর এই টার্মিনালের মাধ্যমে বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব সৃষ্টির প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখবে বেবিচক। প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে আছেন ২ লাখ ৫০ হাজার বিদেশি নাগরিক। বাংলাদেশে পর্যটন বৃদ্ধি পেলে যাত্রী সংখ্যাও বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল দেশের আকাশপথে যোগাযোগে নতুন মাইলফলক। বিশ্বের আধুনিক সব বিমানবন্দরের মতো এখানেও সব সুবিধা থাকবে যাত্রীদের জন্য। দেশের মানুষের যোগাযোগের পাশাপাশি ট্রানজিট সুবিধা সৃষ্টি হবে।

তৃতীয় টার্মিনাল হলে যাত্রীদের সুবিধা হলেও একটি মাত্র রানওয়ে হওয়ায় শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্টরা রানওয়ের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব করছেন ঢাকায়। দ্বিতীয় রানওয়ের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, এখনই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটের চাপ অনেক বেশি। ১টি ফ্লাইট টেকঅফ করার সময় ৩০-৪০ মিনিট ট্যাক্সিতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ল্যান্ডিং করার পর ট্যাক্সিতে ২০-৩০ মিনিট সময় নষ্ট হয়। এ কারণে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে এয়ারলাইনগুলোর। এ সংকট দূর করতে দ্বিতীয় রানওয়ের প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ফ্লাইট সংখ্যা বাড়লে একটি মাত্র রানওয়ে কার্যক্রম পরিচালনা কষ্টসাধ্য হবে। তাই আরেকটি রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জায়গা না থাকায় পূর্ণাঙ্গ রানওয়ে করা সম্ভব হবে না। ডিপেন্ডেবল রানওয়ে করা হবে। মূল রানওয়েতে ফ্লাইট উঠানামা করবে। ডিপেন্ডেবল রানওয়েতে ফ্লাইট উড্ডয়নের জন্য অপেক্ষা করবে। তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ শেষ হলে এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ থেকে ভারত, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ কাছাকাছি দূরত্বে। বাংলাদেশে থেকে দ্রুত সময়ে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে যাওয়া সম্ভব হবে। এভিয়েশন হাব হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশ হয়ে এসব গন্তব্যে যে কেউ যেতে পারবেন। তবে আকাশপথে যোগাযোগে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী করতে হলে সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। ব্যবসাবান্ধব এভিয়েশন নীতিমালা করতে হবে বলে মনে করেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। দেশি এয়ারলাইনগুলো যেন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে সেজন্য নীতিগত সহায়তা দিতে হবে।

দেশকে এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত প্রসঙ্গে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু অবকাঠামো নয়, অন্যান্য বিষয়েও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। জনবল সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন চার্জ সহনীয় মাত্রায় না থাকলে অবকাঠামো থাকলেও অন্যরা আগ্রহী হবে না।

এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ অতি উচ্চ হারে জেট ফুয়েল বিক্রি হয়। এই মূল্যে ফুয়েল নিতে কেউ বাংলাদেশে আসবে না। খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতেও জটিলতা আছে, শুল্ক পদ্ধতিও এভিয়েশনবান্ধব নয়। ফলে এ বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে সহজ সমাধান করতে হবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, এভিয়েশন হাব তৈরির বিষয়ে সরকার আন্তরিক। জনবল সৃষ্টিতে এভিয়েশন ইউনিভার্সিটি তৈরি করা হয়েছে। এভিয়েশন হাবের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরো এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। অন্যান্য বিষয় নিয়েও পরিকল্পনা মতো কাজ চলমান আছে।

/ইউএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
এক নজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম