দেশের বরেণ্য শিল্পী, সুরকার, সংগীতজ্ঞদের স্মরণে শিল্পকলা একাডেমি ‘স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এতে লোক সংগীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ ও নৃত্যশিল্পী উদয় শংকরের প্রতিভার বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন বিশিষ্টজনরা।
সোমবার (২৯ মে) একাডেমির প্রযোজনা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠান পর্বে লোকসংগীতশিল্পী, পরিচালক ও সুরকার আব্বাসউদ্দীন আহমদকে নিয়ে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইম রানা এবং আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার। আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের দৌহিত্র শারমিনী আব্বাসী।
তিনি বলেন, ইসলামিক গানকে যেভাবেই আমরা গুরুত্ব দেই না কেন, চল্লিশের দশকের বাস্তবতা ভেঙেছিলেন আব্বাসউদ্দীন। কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্রিটিশ রাজত্বকালে নানা সমালোচনার মুখেও তিনি অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে থেকেছেন, যারা ধর্মের নামে অসত্য ছড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে থেকেছেন।
শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিগত বিকাশের সঙ্গে গ্রামীণ জনপদের গানগুলো যেন অবহেলার শিকার হয়ে হারিয়ে না যায় সে জন্য আব্বাসউদ্দীন সেসব গান সংরক্ষণ, গবেষণার পাশাপাশি অনেক মানুষকে সংযুক্ত করেছিলেন।
পরে লোকসংগীত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির বহুমুখী কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। তিনি বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসা লোকসংগীত সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে শিল্পকলা একাডেমি। কয়েক দিন আগেই কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলের ৬ শতাধিক লোকগান আমরা রেকর্ড করেছি, যেগুলো আমাদের শিল্পীদের দিয়ে গাওয়াবো এবং আর্কাইভ করবো।
তিনি আরও বলেন, আব্বাসউদ্দীন কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা আমাদের বুঝতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তার স্বরূপ কিছুটা হলেও তুলে ধরতে আমরা আব্বাসউদ্দীনকে নিয়ে ডকুমেন্টেশন তৈরি করবো, জেলায় জেলায় তা ছড়িয়ে দেবো।
পরে সভাপতির বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব সালাহউদ্দিন আহাম্মদ। আব্বাসউদ্দীন আহমদ স্মরণে সংগীত পরিবেশন করেন সুস্মিতা দেবনাথ সূচি, আব্দুল্লাহেল-রাফি, হীরক সরদার, রোকসানা আক্তার রূপসা এবং বিমান চন্দ্র।
এর পরের পর্বেই শুরু হয় বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্কর স্মরণে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন নিগার চৌধুরী। আলোচনা পর্বের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উদয় শঙ্কর স্মরণে নৃত্য পরিবেশন করেন সুইটি দাশ, সুদেষ্ণা সয়ম্প্রভা তাথৈ এবং শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যশিল্পীরা।








