ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ‘মাদক কারবারি’ রাজন গত ২৮ জুন গাড়ি চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়। এর পেছনে সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীর হাত রয়েছে বলে সন্দেহ ছিল তার। পরে জামিনে জেল থেকে বেরিয়ে সাইফুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যমে শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
এর আগে সাইফুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে সাত জনকে গ্রেফতার করে র্যাব।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো– মো. রাজন হোসেন (৩১), মো. জানে আলম (৩৬), মো. সুমন ওরফে গর্দা সুমন (২৫), মো. লিটন হোসেন (২৬), মো. দিপু (২৩), মো. সরোয়ার আকন্দ (২৬) ও মো. সজীব (২৯)।
তাদরে কাছ থেকে সূচালো লোহার রড, একটি ভাঙা ক্রিকেট ব্যাট, একটি ব্যাটন ও ছয়টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
সাইফুল কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ সাতপাখি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। সাতপাখি রোডে তার কাপড়ের দোকান ছিল। গ্রেফতার আসামিরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে।
র্যাব জানায়, সম্প্রতি পশ্চিমা একটি দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন সাইফুল। এজন্য তাড়াহুড়া করে তাকে হত্যা করা হয়। ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় দোকান থেকে বাসায় ফিরছিলেন সাইফুল। খেজুরবাগ স্কুল রোডে পৌঁছলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাজনের নেতৃত্বে জানে আলম, সুমন, লিটন, দিপু, সরোয়ার ও সজীবসহ ১০-১২ জন তার পথরোধ করে। ক্রিকেট ব্যাট, ব্যাটন, লোহার রড এবং অন্যান্য দেশি অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে মাটিতে পড়ে গেলে পাশের একটি দোকান থেকে চামচ এনে তার চোখ উপড়ে ফেলে রাজন। সাইফুলের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন বাদী হয়ে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা এবং র্যাব-১০ এর একটি দল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।’
তিনি বলেন, ‘সাইফুল ছিল এলাকার সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ। মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতেন। তিনি বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসা সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সহায়তা করতেন। এ কারণে বিভিন্ন সময় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও অন্যান্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে।’
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, গ্রেফতার রাজন গত ২৮ জুন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। সে ধারণা করে, তার এই গ্রেফতারের পেছনে সাইফুলের হাত রয়েছে। এছাড়াও জানে আলম এবং সুমন ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে গ্রেফতার হওয়ার পেছনেও সাইফুলের হাত রয়েছে বলে তারা ধারণা করে। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে।
কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার রাজন স্থানীয় একটি রিকশা গ্যারেজ পরিচালনা করতো। পাশাপাশি এলাকায় মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, গাড়ি চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। রাজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্য ও চুরিসহ পাঁচটির বেশি মামলা রয়েছে।
জানে আলম রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। পাশাপাশি এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধেও অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্য ও চুরিসহ চারটির বেশি মামলা রয়েছে।
সুমন কাঠ কাটা শ্রমিকের কাজ করতো। পাশাপাশি সে এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটির বেশি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতার লিটন মুদ্রাক্ষরিক, দিপু ও সজীব জাহাজ ভাঙার শ্রমিক এবং সরোয়ার রঙ মিস্ত্রির কাজ করতো। এছাড়াও তারা গ্রেফতার রাজনের নেতৃত্বে এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
গ্রেফতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানায় র্যাব।









