প্রলোভনে পড়ে নিজের লিঙ্গ পরিবর্তন করে হিজড়া সেজেছিলেন তিনি। পরে এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থেকে জড়িয়ে পড়েন বিরোধে। ওই ব্যক্তিকে (প্রেমিক) হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। নওশাদ ওরফে চম্পা ওরফে স্বপ্না নামের অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার সদস্যরা।
গত ১৭ অক্টোবর গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানা এলকার হিজড়া পল্লি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।
তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি নওশাদ ওরফে চম্পা ওরফে স্বপ্না জানায়, সে জন্মগতভাবে হিজড়া ছিল না। তার আসল নাম নওশাদ। সে বিবাহিত পুরুষ ছিল, তার ১২ বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তানও আছে। প্রায় ১১ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। এর পর সে কর্মবিমুখ হয়ে বেকার জীবনযাপন করতে থাকে এবং হতাশ হয়ে পড়ে।
স্ত্রী মারা যাওয়ার কিছু দিন পর তার সঙ্গে দেলু হিজড়ার পরিচয় হয়। দেলু হিজড়া নওশাদকে হিজড়া হওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং বলে হিজড়া হলে সে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবে। দেলু হিজড়ার কথায় প্রলুব্ধ হয়ে নওশাদ হিজড়াদের দলে যোগ দেয়। এর দেড় বছর পর দেলু হিজড়ার কথা মতো খুলনার লোহাপাড়ায় এক ডাক্তারের মাধ্যমে অপারেশন করে মেয়ে হিজড়া হয়। সে ডাক্তার অনেক লোককে অপারেশন করে হিজড়া বানিয়েছে বলেও নওশাদ দাবি করে। হিজড়া হওয়ার পরে নওশাদ তার নাম পরিবর্তন করে চম্পা নাম ধারণ করে এবং দেলু হিজড়ার অধীনে ৪/৫ বছর কাজ করে।
বনজ কুমার আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে চম্পা ঢাকার আশুলিয়ার এনায়েতপুরে গিয়ে বসবাস শুরু করে। সেখানে বসবাসকালে ভিকটিম রাকিব হাসান শাওনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। রাকিব অবিবাহিত পুরুষ ছিল। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে তারা একসঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে শুরু করে। ভিকটিমের খরচ চম্পা বহন করতো।
২০২১ সালে ১ জুন রাকিব ১০০০ হাজার টাকা চায় চম্পার কাছে। টাকা না দেওয়ায় রাকিব তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। পরে রাকিব ২০ টাকা নিয়ে মোবাইল ফোন বাসায় রেখে বের হয়ে যায়। ওই ফোনে রিপা নামে এক হিজড়া কল করে। কল রিসিভ করে চম্পা ওরফে স্বপ্না জানতে পারে, রিপার সঙ্গেও রাকিবের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।
এ নিয়ে রাকিবের সঙ্গে বাতবিতণ্ড হলে নওশাদ ওরফে চম্পা ওরফে স্বপ্না রাকিবের গলায় গামছা পেচিঁয়ে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর সে তার গুরুমা রুমি হিজড়ার বাসা থেকে চটের বস্তা নিয়ে এসে রাকিবের লাশটি ভরে গুম করার সুযোগ খুঁজতে থাকে।
ছয় দিন এভাবে রাখার পর ২০২১ সালের ৭ জুন প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারের সুযোগে সে বস্তায় ভরে রাখা লাশটি বাসার পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। ৮ জুন সকালে স্থানীয় লোকজন বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দিলে নওশাদ ওরফে চম্পা ওরফে স্বপ্না পালিয়ে গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানা এলাকার হিজড়া পল্লিতে গিয়ে নওশাদ ওরফে চম্পা নাম পরিবর্তন করে স্বপ্না হিজড়া নামে আত্নগোপন করে।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামি নওশাদ ওরফে চম্পা ওরফে স্বপ্না হিজড়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে সে ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।









