অস্বাভাবিক পথে যারা অবরোধ করছে, চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে, জনগণের জানমালের ক্ষতি করছে, তাদের ধরিয়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘চলমান অবরোধ কর্মসূচি সংবিধান ও জনবিরোধী। জনগণের যান চলাচল বিঘ্নিত করা দেশের প্রচলিত আইনবিরোধী। যারা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে অবরোধে জড়িয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
বুধবার (১ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকা শহরের যানজট ও ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নানা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার ‘মেসেজ টু কমিশনার’ পরীক্ষামূলকভাবে দুটি নম্বর চালুর কথা জানান। ০১৩২০২০২০২০ ও ১০৩২১০১০১০ এই দুটি নম্বরে নগরবাসী বার্তা পাঠিয়ে ও হোয়াটসঅ্যাপে তাদের সমস্যা জানাতে পারবেন। ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ ক্র্যাবের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান।
গত ২৮ অক্টোবরে হামলা, নাশকতা, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ পুলিশ হত্যায় জড়িত কতজনকে পুলিশ শনাক্ত করেছে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের ওপর যেভাবে হামলা ও হত্যা করা হয়েছে, জড়িতরা যত শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। যেখানেই পালিয়ে যাক, যেভাবেই আত্মগোপন করুক না কেন, কোনোভাবেই তারা ছাড় পাবে না। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করবেই। এজন্য পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে।’
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও আসামি গ্রেফতার করা হবে।’
২৮ অক্টোবরের পর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে। সেই অবরোধ কর্মসূচির কারণে নাশকতা হচ্ছে, বাসে জ্বলছে। ভীতি ছড়িয়েছে। গণপরিবহন চলাচল সীমিত হয়েছে। দূরপাল্লার বাস চলছে না। এসব ব্যাপারে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, ‘অবরোধ কর্মসূচির নামে যা চলছে তা জনবিরোধী। জনসাধারণের সাধারণের স্বাভাবিক চলাচলবিরোধী। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যারা অবরোধে জড়িয়েছে, তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
কমিশনার আরও বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা পরিচয়ে একজন বাংলাদেশি হাজির হয়েছেন একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে। তিনি মিডিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। যা দেশের প্রচলিত আইনবিরোধী। প্রচলিত আইনে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। তার সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের একজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
গত ২৮ অক্টোবরের ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। মিডিয়ার মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ সেদিনকার ঘটনা দেখেছে। পুলিশ নয়, বিএনপিই একের পর এক উসকানি দিয়েছে। পুলিশ শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করেছে তাদেরকে নিরস্ত্র করা যায় কিনা। দলটির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও পুলিশ কথা বলেছে। যারা বিশৃঙ্খলা করেছে, তাদের না সামলালে মহাসমাবেশ কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হবে— একাধিকবার এই অনুরোধ করা হলেও তারা কিছুই করেননি। পরবর্তী সময়ে হামলা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর আক্রমণ, পুলিশ সদস্য হত্যাসহ যে ধ্বংসযজ্ঞ তারা চালিয়েছে, বিশৃঙ্খলা করেছে— এটাই প্রমাণ করে যা যা ঘটেছে, তাতে তাদের সায় ছিল। তাদের নির্দেশক্রমেই ঘটনাগুলো ঘটেছে।’
ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন, অতিরিক্ত কমিশনার মো. মুনিবুর রহমান ও অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









