নাশকতার চেষ্টা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি। বুধবার (১৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাসানটেক, শাহ আলী ও শাহবাগ থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন হলেন— মাহফুজ হোসেন মুনা, মো. ইয়াছিন, মো. ফরহাদ, মো. মাহি, মো. আউলাদ হোসেন, মো. নাছিম, মো. আমজান আলী হোসেন ও মো. তানভীর হোসেন।
পুলিশের দাবি, এ সময় তাদের হেফাজত থেকে নাশকতায় ব্যবহৃত ৫টি খালি জর্দার কৌটা, ১০০টি লোহার বেয়ারিংয়ের বল, ২৪টি কনডেন্সড মিল্কের খালি কৌটা, ২টি কালো স্কসটেপ, ১টি প্লায়ার্স, ১টি কাঁচি, ৬৫ গ্রাম গুনার তাঁর, ১০টি পুরান কাপড়ের টুকরা, ২ লিটার পেট্রোল, ১২টি লাঠি ও ২৫০টি সিমেন্টের তৈরি ব্লক উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ মহিদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, বুধবার রাতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাসানটেক থানা পুলিশের একটি দল জানতে পারে যে, পূর্ব ভাসানটেক এলাকার নির্মাণাধীন একটি ভবনের নিচ তলায় কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী ককটেল, পেট্রোল বোমা, ইট-পাটকেল ও লাঠি নিয়ে অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ভাসানটেক থানা পুলিশের টিম সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালনোর সময় আট জন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে দিনের অপর এক ঘটনায় বুধবার রাতে শাহ আলী থানা এলাকার মিরপুর বেড়িবাঁধে পার্কিং করা মানারাত ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার মূল হোতা রূপনগর থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন জসিমকে শেওড়াপাড়া থেকে গ্রেফতার করে শাহআলী থানা পুলিশ। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে আড়াই লিটার কেরোসিন, ৫০০ গ্রাম পেট্রোল, ৫০০ গ্রাম ফিনাইল জাতীয় তরল পদার্থ ও রূপনগর থানা বিএনপির একটি ব্যানার উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এছাড়া, বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর সময় তিন দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নূর মোহাম্মদ শিকদার, মোহাম্মদ বখতিয়ার চৌধুরী ওরফে শাহীন ও মো. রুবেল।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, নগরবাসীর আস্থার জায়গা হচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি বদ্ধপরিকর। যারা নাশকতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’









