নিজের অপকর্ম আড়াল করতে জুয়েলকে হত্যা করেছে তারই সহকর্মী আক্তার হোসেন। পেশায় তারা দুজনই নিরাপত্তাকর্মী। কাজ করতেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ‘সিদীপ’ নামে একটি এনজিওতে। এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী আক্তারকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) মোহাম্মদপুরে নিজ কার্যালয়ে ঘটনাটি বিস্তারিত তুলে ধরেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক।
এর আগে বুধবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকার একটি কারখানা থেকে অভিযুক্ত আক্তার হোসেনকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
এইচ এম আজিমুল হক জানান, গত মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানতে পারে—মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় অবস্থিত ‘সিদীপ’ নামে একটি এনজিওর পাওয়ার সাব-স্টেশন রুমের ভেতর একজন সিকিউরিটি গার্ডের মরদেহ পড়ে আছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং জানতে পারে নিহত ব্যক্তির নাম জুয়েল।
ওই দিনই (২৩ জানুয়ারি) জুয়েলের মা বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ভবনে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর পাঁচটার দিকে গ্রেফতারকৃত আক্তার হোসেন কম্বল মুড়িয়ে চেয়ারে শুয়ে থাকা জুয়েল মিয়াকে লাঠি দিয়ে আঘাত করছে। এতে জুয়েল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরও আক্তার তাকে নৃশংসভাবে আঘাত করতে থাকে। লাঠির আঘাতে জুয়েলের মাথা, চোখ, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। আঘাতের কারণে জুয়েলের মৃত্যু হলে আক্তার হোসেন লাশ গোপন করার জন্য তার হাত বেঁধে, কম্বল মুড়িয়ে পাওয়ার সাব-স্টেশন রুমের ভেতর নিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েলকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আক্তার।
উপ-পুলিশ কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক আরও বলেন, গ্রেফতারকৃত আক্তার দেড় বছর ধরে ‘সিদীপ’ এনজিওতে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ আসছে। আর জুয়েল গত ১ জানুয়ারি সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে যোগদান করে। জুয়েল মিয়া অফিসের বাইরে যেতে চাইলে প্রায় সময়ই আক্তার বাধা দিতো। এতে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। আক্তার হোসেন আগে থেকে এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে অন্যদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতো। জুয়েল মিয়া তা মেনে নিতে পারেনি।
উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, এছাড়া জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আক্তার তার এক বান্ধবীকে রাতে অফিসে নিয়ে আসে। জুয়েল তখন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। বিষয়টি সে কর্তৃপক্ষকে বলে দেওয়ার হুমকি দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘটনার দিন আক্তার লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে জুয়েলকে হত্যা করে।









