পারিবারিক কলহের জের ধরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে গৃহবধূ রোজিনাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী আকাশ ওরফে সঞ্জিত সাহা ও মালা সাহা নামে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মাহবুব উজ জামান।
তিনি বলেন, ভিকটিম রোজিনার সঙ্গে দেড় বছর আগে নওমুসলিম আকাশ ওরফে সঞ্জিত সাহার বিয়ে হয়। কামরাঙ্গীরচর থানাধীন বড়গ্রাম ওয়াপদা মসজিদ সংলগ্ন হাজী মো. বদরুদ্দিনের বাড়ির দ্বিতীয় তলার পূর্ব পার্শের ফ্যাটে থাকতেন। বিয়ের পর তাদের ঘরে সৌরভী (৪ মাস) নামে একটি কন্যা সন্তান হয়। কিছুদিন পরে ভিকটিম জানতে পারেন তার স্বামী আগেও একটি বিয়ে করেছিল। সেই ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল নয়টার দিকে ভিকটিম ও তার ৪ মাসের শিশু কন্যা সৌরভীসহ নিজ ঘরে অবস্থানকালে স্বামী আকাশ ওরফে সঞ্জিত সাহার যোগসাজশে সহযোগী মালা ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি গালের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম ও গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে কৌশলে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, পরে ভিকটিম রোজিনার লাশ উদ্ধার হলে তার বাবা আ. রহিম বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার তদন্তে ওই বাসার আশেপাশের প্রায় ৫০-৬০টি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে সন্দেহভাজন হিসেবে গত রবিবার ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন খোলামোড়া এলাকা থেকে মূল আসামি মালা সাহা ও আকাশ ওরফে সঞ্জিত সাহাকে গ্রেফতার করা হয়।
উপ-কমিশনার মাহাবুব উজ জামান জানান, গ্রেফতার আসামিরা কৌশলে ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি এড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন কলা-কৌশল ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ ওরফে সঞ্জিত সাহা জানায়, পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে আয়নার একটি ভাঙা অংশ নিয়ে, শাড়ির ওপরে বোরকা ও হিজাব পরে বাসায় ঢুকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হত্যা কাজে ব্যবহৃত আয়নার ভাঙা অংশটি বুড়িগঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় মাঝ নদীতে ফেলে দেয়। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আয়নার অবশিষ্ট অংশ ও ঘটনার সময় আসামীর পরিহিত গোলাপী রংয়ের বোরকা, কালো রংয়ের হিজাব এবং প্রিন্টের শাড়ি আলামত হিসাবে জব্দ করা হয়েছে।









