অনিয়মের অভিযোগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ অভিযান চালানো হয়।
এছাড়া আরও পাঁচটি অভিযোগের বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে দুদক। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অফিসে অভিযান চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে চারটি সরকারি দফতরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।
দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অনিয়মের অভিযোগ পায় দুদক। পরে বৃহস্পতিবার তাৎক্ষনিকভাবে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযান চালায়। অভিযানে সংস্থাটির সদস্যরা হাসপাতালে ছদ্মবেশে অবস্থান নিয়ে রোগীদের সেবা দানে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান। সেবা গ্রহণে আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, রেডিওলজি ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন অ্যাটেন্ডেন্ট টেস্টের জন্য রোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছিল। এছাড়াও কতিপয় আনসার সদস্য রোগীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায় করছিল। এসব অনিয়মের বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালককে জানানো হলে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে দুদক টিমকে আশ্বস্ত করেন। অভিযানে সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে।
দুদকের উপ-পরিচালক আরও বলেন, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিআরটিএ অফিসে বিভিন্ন সেবা দানে গ্রাহক হয়রানি ও দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ পাওয়ার দুদকের চট্টগ্রাম-১ থেকে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট টিম। সেখানে সংস্থাটির সদস্যরা দালালদের উপস্থিতি দেখতে পান। এ সময় চার জন দালাল ও তিন জন কর্মচারীকে হাতেনাতে আটক করে দুদক টিমের সদস্যরা। পরে তাদের উপ-পরিচালকের (ইঞ্জি.) কাছে উপস্থিত করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে চার জন দালালকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
অভিযানের সময় ওই অফিসের সহকারী পরিচালককে বিনা অনুমতিতে অফিসে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। চট্টগ্রামের বিআরটিএ অফিসে চলমান বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট টিম সুপারিশসহ কমিশন বরাবর প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে বলেও জানান আকতারুল ইসলাম।









