অমর একুশে বইমেলায় শিশুদের পছন্দের স্থান শিশুচত্বর। প্রতিবছরের মতো এবারও শিশুতোষ বইয়ের পসরা বসেছে এই চত্বরে। এখানে স্টলগুলো বয়সভেদে শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন ধরণের বই নিয়ে হাজির হলেও, শিশুরা পছন্দ করছে রঙ-বেরঙের মলাট আর ছবির বই।
শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় শিশু চত্বরে বাংলা একাডেমির বিশেষ আয়োজন শিশু প্রহরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন সকাল সাড়ে ১১টায় যথারীতি শিশুচত্বর মঞ্চে হাজির হয় জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র সিসিমপুরের হালুম, টুকটুকি, শিকু, ইকরি। তাদের সঙ্গে নাচে-গানে আনন্দঘন সময় পার করে শিশুরা। শিশু প্রহরের বিশেষ আয়োজন শেষ হতেই শিশুরা অভিভাবকদের নিয়ে ভিড় করেন স্টলগুলোতে। নেড়ে-চেড়ে পছন্দ করেন বই, সন্তানদের বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে উৎসাহ দেন সচেতন অভিভাবকরাও।
মেলার স্টলকর্মীরা জানান, বয়সভেদে উপযোগী বই রেখেছেন তারা। খুব ছোটদের জন্য আছে ছবির বই আবার একটু বড়দের জন্য আছে ভূতের গল্প থেকে স্পাইডারম্যান, রূপকথার গল্প। তবে শিশুদের বেশি আকর্ষণ করছে রঙ-বেরঙের মলাট আর ছবির বই।
তাকডুম স্টলের বিক্রয়কর্মী শাকিব বলেন, 'আমাদের এবার চারটি নতুন বই এসেছে মেলায়। সবগুলো বই শিক্ষামূলক আর শিশুদের আকর্ষণের কথা মাথায় রেখে রঙিন ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে। ফলে শিশু ও অভিভাবক সবার সাড়া পাচ্ছি অনেক।'
শিশুবেলা প্রকাশনী স্টলে কথা হয় প্রকাশক মমতাজ উদ্দীনের সাথে। তিনি বলেন, 'এখন শিশুরা ডিভাইস আসক্ত বেশি। তাই মেলাতে শখ করেই বেশি বই কিনছে। অভিভাবকেরা চান সন্তান বইমুখী হোক তাই মেলাতে তাদের নিয়েও আসছেন। তবে আগের মতো বইয়ের চাহিদা শিশুদের মধ্যে দেখা যায় না। তাই অধিকাংশ রঙিন মলাট, ছবি আছে এমন বই বিক্রি হচ্ছে।'
প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীদের কথার মিল পাওয়া যায় অভিভাবকদের সঙ্গেও। আজিমপুর থেকে আসা ৪ বছরের রাইফার অভিভাবক জেসমিন বলেন, 'মেয়ে দুইটি বই কিনেছে। ওকে মেলায় এনেছি মূলত বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে। আসার সময় ভেবেছিলাম ভূত বা রূপকথার বই কিনে দেবো। কিন্তু মেলায় এসে ওর পছন্দ ছবির বই।'
মেলায় সিসিমপুর স্টলের সামনে কথা হয় মোহাম্মদপুর থেকে আসা ৭ বছরের রাহিনের সঙ্গে। রাহিন বলেন, 'সিসিমপুর থেকে ইলকাস মিলকাস কিনেছি। আর স্পাইডারম্যানের বই কিনবো, আর কার্টুনের বই কিনবো। আমার ছবির বই ভালো লাগে।'
রাহিনের বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা রাফিদ হাসান বলেন, 'এখন তো ভূতের বইয়ের থেকে ছবির বই পছন্দ বাচ্চাদের। আমার ইচ্ছা তাদের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হোক। সেটা ছবির বই থেকেও যদি হয়, তাহলে সেটাই।'
ছবি: নাসিরুল ইসলাম









