X
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
৮ বৈশাখ ১৪৩১

সংসদ সদস্যদের থোক বরাদ্দ দেওয়ার আগে জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি টিআইবির

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:২৩আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২০:২৩

প্রত্যেক সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ বছরে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে জনগণের অর্থের অপব্যবহার ও দুর্নীতির সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে আগের মেয়াদের প্রকল্পের নিবিড় ও নিরপেক্ষ নীরিক্ষার ওপর ভিত্তি করে কৌশল প্রণয়ন ও কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এলজিআরডি মন্ত্রী সংসদে ঘোষণা করেছেন, প্রত্যেক সংসদ সদস্য তাদের নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ বছরে ২০ কোটি টাকা করে পেতে পারেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ২০২০ সালের ১২ আগস্ট ‘সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দ: অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক টিআইবির গবেষণায় দেখা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে অনেক স্কিমের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও স্কিম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে ঠিকাদার ও তদারকি কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক যোগসাজস এবং কমিশন বাণিজ্যের ফলে স্কিমের কাজের মান প্রত্যাশিত পর্যায়ের ছিল না, অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে এবং স্বার্থান্বেষী মহল লাভবান হয়েছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সংসদীয় আসনভিত্তিক থোক বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও তার সঠিক ব্যবহার ও সুশাসন নিশ্চিতের উদ্যোগ বরাবরই উপেক্ষিত রয়ে গেছে। কেননা সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্যই অনুমোদিত কাজের অগ্রগতি তদারকি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির একক দায়িত্বে থাকেন। একইসঙ্গে, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তির জন্য বিভিন্ন অনিয়মকে প্রশ্রয় দেন সদস্যদের একাংশ। ফলে এইসব কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। আমরা মনে করি, এই প্রকল্প সংসদ সদস্যের একাংশের জন্য স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা অর্জনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে আসছে। ফলে এ ধরনের প্রকল্প অনিয়ম-দুর্নীতিকে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাভাবিকতায় পরিণত করেছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘২০২০ সালের গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করেছিল টিআইবি। কিন্তু এই সুপারিশমালা আমলে নিয়ে সংসদ সদস্যদের থোক বরাদ্দ ব্যবহারে সুশাসন নিশ্চিতে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। প্রকল্প ও স্কিমগুলোতে কার্যকর তদারকি এবং প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সততা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট অবশ্য পালনীয়  আচরণবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অপরিহার্য। নতুন করে থোক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরুর আগে পূর্বের বরাদ্দগুলোর নিবিড় ও নিরপেক্ষ নীরিক্ষার দাবি জানাচ্ছে টিআইবি। একইসঙ্গে, প্রকল্পের স্কিমগুলো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় পরিবীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছে।

/জেইউ/আরআইজে/
সম্পর্কিত
উপজেলা নির্বাচনমন্ত্রী-এমপি’র আত্মীয়দের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ আ.লীগের, আছে শাস্তির বার্তাও
পাটকে আবারও আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে কাজ করবো: এমপি কামাল
এআই নীতি প্রণয়নে সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান
সর্বশেষ খবর
এই গরমে কেমন পোশাকে স্বস্তি মিলবে
এই গরমে কেমন পোশাকে স্বস্তি মিলবে
তরুণদের নিয়ে বেসিস নির্বাচনে সোহেলের টিম স্মার্ট
তরুণদের নিয়ে বেসিস নির্বাচনে সোহেলের টিম স্মার্ট
তীব্র গরমেও শীতল করমজল!
তীব্র গরমেও শীতল করমজল!
ইসরায়েলের জন্য মার্কিন সহায়তা প্যাকেজে যা যা রয়েছে
ইসরায়েলের জন্য মার্কিন সহায়তা প্যাকেজে যা যা রয়েছে
সর্বাধিক পঠিত
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
জানা গেলো বেইলি রোডে আগুনের ‘আসল কারণ’
প্রবাসীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কোটিপতি, দুই ভাই গ্রেফতার
প্রবাসীদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে কোটিপতি, দুই ভাই গ্রেফতার
চট্টগ্রামে ভূমিকম্প, মাত্রা ৩ দশমিক ৭
চট্টগ্রামে ভূমিকম্প, মাত্রা ৩ দশমিক ৭
কেএনএফের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, কেঁদে কেঁদে স্ত্রী বললেন আমার ৩ সন্তানকে কে দেখবে?
কেএনএফের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত, কেঁদে কেঁদে স্ত্রী বললেন আমার ৩ সন্তানকে কে দেখবে?