X
মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪
১০ বৈশাখ ১৪৩১

অনলাইনে প্রশ্ন বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে ২ প্রতারক ধরা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:১০আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২১:৫৩

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কড়া নজরদারির মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টেলিগ্রামে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায়। প্রশ্নফাঁস চক্রের এমন তৎপরতা টের পেয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে আন নাফিউল ওরফে নাফিজ ইকবাল নামে প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এছাড়া ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগে মো. আসিফ তালুকদার নামে আরেক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ঢাকা, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আন নাফিউল নাফিজ ইকবালের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি রাথাবাড়ীতে। তার বাবার নাম সবুজ আহমেদ।

ডিবি জানায়, একই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাইবার সিকিউরিটি ইনচার্জ পরিচয় দিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ ও সাইবার  টিনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. সাদাত রহমানের (২১) নামে ফেক আইডি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বিক্রির অভিযোগে মো. আসিফ তালুকদার নামে আরেক যুবককে গ্রেফতার করে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস না হলেও ভুয়া প্রশ্নপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা ও প্রতারণা করেছে নাফিজ। একইভাবে প্রতারণামূলকভাবে ফেক আইডি খুলে ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রির নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছে আসিফ।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মোহাম্মদ হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন গ্রুপে প্রচার এবং বিভিন্ন গ্রুপের পোস্টে কমেন্ট করে ভর্তি ইচ্ছুক সাধারণ পরীক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করে প্রতারকরা। ভর্তি ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীরা সহজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাওয়ার আশায় অপরাধীদের দেওয়া টেলিগ্রাম নম্বরে এবং ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করলে, তারা তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে আগে ২০ হাজার টাকা পাঠানোর পর প্রশ্ন দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। টাকা নেওয়ার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় তারা।

নাফিজ সম্পর্কে তিনি বলেন, নাফিউল নাফিজ মহিপুর হাজী মহসিন কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র বিক্রির নামে প্রতারণা করে প্রায় ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

অপরদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ ও সাইবার টিনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো. সাদাত রহমানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা সম্পর্কে হারুন অর রশীদ বলেন, সাদাত রহমান তরুণ শিশু সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করেন। তিনি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কাজ করেন। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি বিভিন্ন পুরস্কারও পেয়েছেন। তার ফেসবুক আইডির মতো ফেক আইডি খুলে প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল আসিফ।

আসিফ নিজেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাইবার সিকিউরিটি ইনচার্জ হিসেবেও পরিচয় দিয়ে আসছিল। আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে করা অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সাদাত রহমানের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতারণায় জড়িত আসিফ তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাইবার টিনস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সাদাত বলেন, কাজের সুবাদে প্রধানমন্ত্রী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রীসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা ছবি আমার ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দেখিয়ে বলা হয়েছে—আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাইবার সিকিউরিটি অফিসার এবং প্রশ্ন ফাঁসের কথা বলে বিকাশ ও নগদ নম্বরে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করি।

তিনি বলেন, অবাক হলাম যে আমি নিজে সাইবার সচেতনতায় পুলিশ প্রশাসন, মন্ত্রণালয়, স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করছি। সেখানে আমি নিজেই ভুক্তভোগী। আমার নামেই প্রতারণা করা হচ্ছে। যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাদের সচেতন হতে হবে। হুটহাট বিশ্বাস করা যাবে না। লোভে পড়ে কখনও অনলাইনে কাউকে টাকা দেওয়া যাবে না। লেনদেনে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতারক আসিফ তালুকদার সম্পর্কে ডিবি প্রধান হারুন বলেন, আসিফ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও প্রতারণায় পিছিয়ে নেই। ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে প্রতারণা ও প্রশ্ন বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। সে অন্যের ছবি ও পরিচয়ে ফেক ফেসবুক আইডি তৈরি করে। ফেক ফেসবুক আইডিতে সাইবার টিনস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতার পরিচয় ব্যবহার করে নিয়মিত ছবি পোস্ট করতো। ভুক্তভোগীর সঙ্গে থাকা প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর ছবি পোস্ট করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতো। নিজেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাইবার সিকিউরিটি ইনচার্জ পরিচয় দিতো।

ফেক ফেসবুক আইডিতে এসএসসি পরীক্ষার (গত বছরের) প্রশ্ন পোস্ট করে দ্রুত যোগাযোগ করতে বলে। তার সঙ্গে যারা যোগাযোগ করতো তারাই প্রতারিত হতো।

হারুন অর রশীদ এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে বলেন, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করা খুবই দুঃসাধ্য। এসব থেকে বিরত থাকুন। এ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। অবৈধ পন্থা অবলম্বনের মনোভাব থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। এদের সন্ধান পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

/কেএইচ/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোটি টাকার মাদকের পার্সেল, আটক ৩
প্রতিদিন খোয়া যাচ্ছে সহস্রাধিক মোবাইল, উদ্ধারে আগ্রহ কম পুলিশের
ব্যাংক ডাকাতির ঘটনায় আরও ৩ নারী কারাগারে
সর্বশেষ খবর
তীব্র গরমের মধ্যে আগুনে পুড়লো চাঁদপুরের ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
তীব্র গরমের মধ্যে আগুনে পুড়লো চাঁদপুরের ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
ঘাম কম হবে এই ১০ টিপস মানলে
ঘাম কম হবে এই ১০ টিপস মানলে
সকাল থেকে চট্টগ্রামে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না ডাক্তাররা, রোগীদের দুর্ভোগ
সকাল থেকে চট্টগ্রামে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না ডাক্তাররা, রোগীদের দুর্ভোগ
মালয়েশিয়ায় দুটি হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত
মালয়েশিয়ায় দুটি হেলিকপ্টারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত
সর্বাধিক পঠিত
সিলিং ফ্যান ও এসি কি একসঙ্গে চালানো যাবে?
সিলিং ফ্যান ও এসি কি একসঙ্গে চালানো যাবে?
টাকা উড়ছে রেস্তোরাঁয়, নজর নেই এনবিআরের
টাকা উড়ছে রেস্তোরাঁয়, নজর নেই এনবিআরের
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
রাজকুমার: নাম নিয়ে নায়িকার ক্ষোভ!
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
সাবেক আইজিপি বেনজীরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক
তাপপ্রবাহ থেকে ত্বক বাঁচানোর ৮ টিপস
তাপপ্রবাহ থেকে ত্বক বাঁচানোর ৮ টিপস