‘অভিবাসন খাতে শক্ত নজরদারি দরকার’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৭ মার্চ ২০২৪, ২০:৪২আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৪, ২০:৪২

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পুর্ণকালীন সদস্য মো. সেলিম রেজা বলেছেন, সৌদি আরবে আমাদের লোকদের অবস্থা ভয়াবহ। যারা তাদের পাঠালো সেদেশে— তাদের জবাবদিহি তাহলে কোথায়? এটা কি কেউ দেখার নেই? রাষ্ট্র কি এই দায় এড়াতে পারে? এই লোকগুলা কবে গেলো, কীভাবে গেলো– তার কি কোনও মনিটরিং আছে? এই যায়গায় আমার সুপারিশ— অত্যন্ত শক্ত মনিটরিং করতে হবে। 

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের বিজয় একাত্তর হলে সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ আয়োজিত এক পরামর্শক সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেলিম রেজা বলেন, ‘প্রবাসীকর্মীদের অভিযোগ— তারা ভালো ব্যবহার পান না। এটা সত্য কথা। বাংলাদেশে যত আইন আছে, অন্যদেশে নেই। আমাদের সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়ন। অভিবাসন খাতের যে সমস্যাগুলো আছে, তার সমাধান কী? আমরা কি সমাধানের পথে কোনও অগ্রগতি দেখেছি? আমার তো মনে হয় না। আমি অন্তত সন্তুষ্ট না। তার কারণ হচ্ছে— এবার আমি হজে গিয়েছিলাম। শুনলাম, ২০২৩ সালে ১৩ লাখ কর্মী বিদেশ গেছে। কিন্তু এবার সৌদি আরবে গিয়ে আমি বাংলাদেশের কর্মীদের ভয়াবহ অবস্থা দেখলাম, তাতে চোখের পানি ধরে রাখা দায়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘অভিবাসন খাতে অনেক কাজ করা হয়েছে, উন্নতিও আছে। তবে আরও অনেক কিছু করার আছে। হস্তক্ষেপ করার পর প্রবাসীকর্মীর অর্থ ছাড় হয় এবং অন্য সমস্যারও সমাধান হয়। এটিই কিন্তু বাস্তবতা। আমি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিএমইটি’র ডিজি ছিলাম, সেই সুবাদে অনেকের সঙ্গে পরিচয় আছে। আমারও অনেককে ফোন করা লাগে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখনও আমাকে প্রবাসীরা ফোন করেন। এটার মানেটা কী? আমাদের বলে দেওয়া লাগছে কেন? এই প্র্যাকটিস কেন হচ্ছে! তাহলে আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সেখানে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী পারপাস সার্ভ হচ্ছে না। হলে কিন্তু আমার কাছে ফোন করার প্রয়োজন পড়তো না। যদি ফোন করলেই হয়, তাহলে কাজটা তো এমনিতেই হওয়ার কথা ছিল। সেই সেবা দেওয়ার জন্যই তো প্রতিষ্ঠানটি আছে। আমাদের এখানে বড় দুর্বলতা আছে।’

সভায় সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ (সিডব্লিউসিএস) ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় ‘বিদেশফেরত নারী অভিবাসীদের ক্ষমতায়ন (ইআরডব্লিউএম)’ শীর্ষক কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন সিডব্লিউসিএস সভাপতি অধ্যাপক ইশরাত শামীম। 

সভায় জানানো হয়, বিদেশফেরত নারী অভিবাসীরাও ঝুঁকিতে রয়েছেন। অভিবাসী নারী শ্রমিকদের প্রতি বেশিরভাগ মানুষের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তারা মনে করেন, নারীরা বিদেশে যাওয়া মানেই শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা। অনেক ক্ষেত্রে অভিবাসী নারী শ্রমিকদের পরিবার, সন্তান, স্বামী, বাবা-মা তাদের গ্রহণ করেন না। কিছু সামাজিক রীতিনীতির কারণে নারী অভিবাসী শ্রমিকদের গ্রহণ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। নারী অভিবাসী শ্রমিকরা শুধু সাব-এজেন্টদের ওপর নির্ভর করে তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি গোপন রাখেন। অপরদিকে, সাব-এজেন্টরা তাদের আরও ভালো চাকরি এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের প্রতিশ্রুতির প্রলোভন দেয়। তারা সরকারি সার্ভিস সাপোর্ট সিস্টেম সম্পর্কে জানেন না। ফলে অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে তারা নির্যাতন ও শোষণের শিকার হয়।

আরও বক্তব্য রাখেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মসংস্থান অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খায়রুল আলম, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান, রেইজ প্রকল্পের পরিচালক সৌরেন্দ্র নাথ সাহা, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক শোয়াইব আহমেদ খান, বিএমইটি’র পরিচালক মাসুদ রানা প্রমুখ। 

/এসও/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
জর্ডানে ‘সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা’ গুজব: দূতাবাস  
১০ বছর পর এলেন দেশে, বাড়ি ফিরলেন মা-ভাই-বোনসহ লাশ হয়ে
প্রবাসীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সেল গঠন
সর্বশেষ খবর
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম