ধানমন্ডিতে স্কুলছাত্রকে অপহরণের নেপথ্যে নিজেদের গাড়িচালক

নুরুজ্জামান লাবু
২২ মার্চ ২০২৪, ০৬:৩৫আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪, ১৬:০৪

দুই ভাইকে রাজধানীর ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়েছিলেন গাড়িচালক কামরুল। বড় ভাইকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে ছোট ভাইকে নিয়ে যান এক বন্ধুর বাসায়। সেখানে গিয়ে সাজান অপহরণের নাটক। সেই বন্ধুকে দিয়ে ফোন করান দুই ভাইয়ের বাবাকে। ছোট ছেলে জামিনুর রহমান (১১) ও গাড়িচালক কামরুলকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে দাবি করেন এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা। ভয়ভীতি দেখিয়ে আদায় করে নেন ২০ লাখ টাকাও। পরে জামিনুরকে নিয়ে বাসায় ফেরেন চালক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গাড়িচালকের সহযোগীকে গ্রেফতার ও মুক্তিপণ হিসেবে নেওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (২০ মার্চ) সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় শিশু জামিনুর রহমান ও গাড়িচালক কামরুল হাসানকে (২৮) অপহরণ করা হয়েছে বলে ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় অপহৃত শিশুর চাচা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেছেন।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, আমার ছোট ভাই আনিসুর রহমানের দুই ছেলে আমিনুর ও জামিনুর। বুধবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে ধানমন্ডি থেকে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের উদ্দেশে রওনা হয় গাড়ি চালক কামরুল হাসান। সাড়ে ৭টার দিকে আমিনুরকে ধানমন্ডি ১২ রোডে মাস্টারমাইন্ড স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হয়। পরে জামিনুরকে নিয়ে গাড়িচালক ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে রোড নং- ১০/এ মাস্টারমাইন্ড স্কুলের সামনে পৌঁছামাত্র অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ওই দিনই সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। নইলে শিশু ও চালককে হত্যা করা হবে বলে জানায়।

পুলিশ জানায়, পরিবারের লোকজন পুলিশকে না জানিয়ে অপহরণকারীদের কাছে ২০ লাখ টাকা পৌঁছে দেয়। পরে চালক ও তাদের সন্তান বাসায় ফিরে আসে। এর আদ্যোপান্ত জানার জন্য জামিনুর ও চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। কামরুলের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে তাকে হেফাজতে রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে চালক নিজেই অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। 

পুলিশ আরও জানায়, কামরুলের গ্রামের বাড়ি ভোলায়। ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। ছেলেকে অপহরণ করতে পারলে একসঙ্গে অনেক টাকা পাওয়া যাবে এই লোভে পরিকল্পনা করেছিলেন। মুক্তিপণের টাকাও নিয়েছিলেন। নিজেও অপহৃত হওয়ার অভিনয়ও করেছেন। কিন্তু একপর্যায়ে সব স্বীকার করতে বাধ্য হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, বুধবার বিকালেই অপহরণকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বসিলা এলাকা থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছিল।

/এফআর/
সম্পর্কিত
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের