রাগ-ক্ষোভে বশীভূত হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিনা, প্রশ্ন রাশেদ খানের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৫ জুলাই ২০২৪, ১৮:২৩আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪, ২১:০৫

কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০১৮-এর সংগঠক, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেছেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিরক্ত হয়ে কোটা বাতিল করেছিলাম। রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের দায়িত্বে থেকে রাগ-ক্ষোভের বশীভূত হয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কিনা, প্রধানমন্ত্রী কাছে সেই প্রশ্ন রেখে গেলাম। ২০১৮ সালে যারা আন্দোলন করেছে, তারা আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা, কোনও মানুষের উপর হামলা করেনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সঠিক নয়।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর পুরানা পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০১৮-এর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কোটা সংস্কার আন্দোলন ২০১৮-এর সংগঠক মো. রাশেদ খান। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে এই দেশে কারা রাজাকারের নাতিপুতি? তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য রাজাকারের নাতিপুতি শব্দচয়ন করে আন্দোলনকারী লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের অপমান করেছেন, তাদেরকে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।’

‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান করছি।’

তার দাবি, প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্য এবং হাইকোর্টে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষার মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে প্রশ্ন থেকে যায়, বাংলাদেশের বিচারবিভাগ কতটুকু স্বাধীনতা?

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে ২০১৮ সালের মীমাংসিত বিষয় সামনে এনে চলমান লুটপাট, আর্থিক-খাতের বিপর্যয়, আজীজ-বেনজীর-আছাদুজ্জামান-মতিউরদের দুর্নীতি, ভারতের সঙ্গে রেলচুক্তি ইত্যাদি বিষয় থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন একটি সফল ছাত্র আন্দোলন। ওই বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন ৮ এপ্রিলে থেকে জোরালো আন্দোলনে পরিণত হলে ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, আর কোনও কোটা থাকবে না, যেহেতু সংস্কার করলে আবার আন্দোলন হবে, তাই কোটা বাতিল করা হবে।

 ‘এরপর ঘোষণার দেড় মাসের অধিক সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারের পক্ষ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছিলো না। যে কারণে ৩০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে সংবাদ সম্মেলন বানচাল করে দেয়। সেদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক নুরুল হক নুর, হাসান আল মামুনসহ বেশ ক'জন গুরুতর জখমের শিকার হয়। এরপর থেকে সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও দমনপীড়নের শুরু করে সরকার।’

‘২ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারীদের লাঞ্ছিত করা হয়,  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুলকে হাতুড়ি-পিটা করে পা ও মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা যেখানেই আন্দোলন করতে যায়, সেখানেই হামলা চালানো হয়, এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ছাত্রলীগের দ্বারা লাঞ্ছিত হতে হয়। গ্রেফতার শিক্ষার্থী রাশেদ খান, ফারুক হাসান, মশিউর রহমান, মাহফুজুর রহমান, জসিম উদ্দিন, রাতুল, সুহেলদের মুক্তির জন্য অভিভাবকরা রাজপথে নেমে আসছে। এত দমন-পীড়নের পরেও কোটা সংস্কার আন্দোলন বন্ধ করা যায়নি। অবশেষে সরকার বাধ্য হয়ে ৪ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে ছাত্রসমাজের কাঙ্ক্ষিত দাবি পূরণ হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সেসময়ে কোটা বাতিল নয় বরং কোটা সংস্কার চেয়েছিলাম’।

গত ৮ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন,  'আগে যে কোটা আন্দোলন বাংলাদেশে হয়েছিল সেখানকার প্রথম সারির ৩১ জন নেতা তারা কিন্তু বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।' ক্ষমতাসীনদের ছাত্র-সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি গত ১৩ জুলাই বলেছেন, ‘২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনকারীদের একজনও বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি।’ এছাড়া গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিরা কোটা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতিরা কোটা পাবে? এসব প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাশেদ বলেন, ‘সরকারের দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে এমন বক্তব্য কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি জানান, ২০১৮ সালে যারা কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছে, তারাই পরবর্তীতে মেধা ও যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে। যারা সংগঠক পর্যায়ে ছিলেন, তাদের নামে মোট ৬টি মামলা দেওয়া হয়। যে মামলাগুলোতে তাদের এখনও হাজিরা দিতে হচ্ছে, কোনও কোনও মামলায় চার্জশিট দিয়েছে, বিচার শুরু হয়েছে।

‘আর ছাত্রলীগের সভাপতি ৯ বছরে গ্রাজুয়েশন শেষ করেছে। এরমধ্যে ৫ বছরই তিনি ফেল করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী যার ছাত্রত্বই থাকার কোনও সুযোগ নেই, তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কেউ চাকরি পায়নি বলে মিথ্যাচার করেছে। সারাদেশে লাখ লাখ শিক্ষার্থী কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছে, তাদের অধিকাংশ এখন চাকরি করছে।’ বলেন রাশেদ।

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে যারা আন্দোলন করেছে, ২০২৪ সালে যারা আন্দোলন করছে, তাদের কারোই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ক্ষোভ নেই। বরং সরকার তার নিজের সুবিধার জন্য বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।’ 

/এসটিএস/এমএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের