ক্ষমতা ছেড়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর রাজধানীজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। কারফিউ শেষে এখন জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে আতঙ্ক-ভয় পিছু ছাড়েনি মানুষের।
রাজধানীর সড়কে নিরাপত্তার জন্য কোথাও কোনও পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নেই। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশও দেখা যায় না। মোড়ে মোড়ে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন।
রিকশা-অটোরিকশা আর ব্যক্তিগত বাহনের আধিক্য থাকলেও সড়কে গণপরিবহন ও লোকসমাগমও কম। কোথাও কোথাও যানজটও তৈরি হয়। সকালে মোহাম্মাদপুর, সাত মসজিদ, মিরপুর রোড, কাঁটাবন শাহবাগ কলাবাগান রাস্তায় গণপরিবহন কম দেখা যায়। তবে যেসব পরিবহন চলাচল করছিল, সেগুলোতে যাত্র কম দেখা যায়। এসব সড়কে ট্রাফিক পুলিশের কোনও সদস্যকে দেখা যায়নি।
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বেসরকারি চাকরিজীবী একজন পথচারী জানান, অনেক সময় ধরে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন শাহবাগে কিন্তু রাস্তায় যানবাহন কম, তাই তিনি এখন শাহবাগ থেকে যেতে পারেননি।
শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবী ইমন আহমেদ তিন দিন ধরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন মোহাম্মাদপুর এলাকায়। দায়িত্ব পালন করতে কেমন লাগছে, জানতে চাইলে বলেন, ‘ভালো লাগছে এ কাজ করতে। এ দেশ আমাদের, আমরাই এ দেশকে রক্ষা করবো।’
বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যাও অনেক। প্রখর রোদ ও বৃষ্টির মধ্যে কাজ করা এসব শিক্ষার্থীকে অসুস্থতা থেকে বাঁচাতে নিজ উদ্যোগে খাবার ও ছাতা উপহার দিচ্ছেন অনেক পরিবার।
এ ছাড়া সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল আরোহীদেরও চলাচলে বাধা দিয়ে সতর্ক করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঝেমধ্যে তাদের শাস্তি হিসেবে দিচ্ছেন ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করার জন্য।
আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। তবে এখনও রাজধানীর সড়কগুলোতে অবস্থান ধরে রেখেছেন বিভিন্ন মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবং সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা। তারাই প্রধানত সড়কে গাড়ি চলাচলসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ করছে।
তবে অনেক পথচারী বলছিলেন, ‘এভাবে যদি সব সময় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতো, তাহলে খুব ভালো হতো।’









