রাজধানীর পল্টনে এক রিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) তাদের আদালতে তুলে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড চাইবে পল্টন থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে তাদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় থেকে আদালতে নেওয়া হবে। পল্টন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেন্টু মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতকে পল্টনে এক রিকশাচালককে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। দুপুর ৩টার দিকে তাদের আদালতে তুলে তিন জনের প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে।’
ওসি বলেন, ‘এ মামলার এজাহারে আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। অভিযুক্ত সবাইকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’
এর আগে বুধবার (১৪ আগস্ট) রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাদের তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় সেবা বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
পল্টন মডেল অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেন্টু মিয়া আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে টুকু, পলক ও সৈকতকে গ্রেফতারের পর ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে আজ তাদের আদালতে নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, গত ১৯ জুলাই পল্টনে এক রিকশাচালক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ওই মামলায় শামসুল হক টুকু, জুনাইদ আহমেদ পলক ও তানভীর হাসান সৈকতকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহারে ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী কামাল মিয়া (৩৯) পেশায় রিকশাচালক। গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি রিকশা নিয়ে পল্টন থানার বটতলা গলির মুখে ভিআইপি রোডে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন সময় প্রতিবেশীর মাধ্যমে জানতে পারি, তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় ভিআইপি রোডের বটতলা গলির মুখে রাস্তার ওপর পড়ে আছেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে জানতে পারি, ওই স্থানে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা রাস্তা অবরোধ করে রাস্তায় আগুন দেয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করতে থাকে। তখন পল্টন থানার এক পুলিশ সদস্য ডিউটি শেষে মোটরসাইকেল নিয়ে কাকরাইল থেকে পল্টন থানায় আসার পথে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা মোটরসাইকেল আটকে তাকে মারধর করে। পুলিশ সদস্যের কাছে থাকা পিস্তল, গুলি, ওয়্যারলেস সেট, মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ নিয়ে যায় এবং দুষ্কৃতকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও ফাঁকা গুলি করলে আমার স্বামী ধাওয়ার মাঝে পড়ে যায়। দুষ্কৃতকারীদের গুলির আঘাতে আমার স্বামী গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তা পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।’








