উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও যুগ্মসচিব পদে পদোন্নিত পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ বিসিএসের ১৩ থেকে ২২তম ব্যাচের ১৯৫ জন কর্মকর্তার। এই পরিস্থিতিতে আবারও প্রধান উপদেষ্টা বরারবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (১৯ আগস্ট) দেওয়া স্মরকলিপিতে তারা বলেছেন, পদোন্নতির সকল যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করার পরও যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি না দিয়ে ন্যায়সঙ্গ অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে তারা উল্লেখ করেন, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২২তম ব্যাচ পর্যন্ত কর্মকর্তারা এর আগে যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। অন্যান্য ক্যাডারের ১৩ম ব্যাচ থেকে ২২তম ব্যাচের ১৯৫ জন কর্মকর্তা ‘সরকারের উপসচিব, যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিবপদে পদোন্নতি বিধিমালা-২০০২’ অনুযায়ী যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতির সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও এবং ১৩৭ জন কর্মকর্তা বিগত সরকারের আমলে একাধিকবার পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছে। এইমধ্যে ন্যূনতম ৬৭ জন কর্মকর্তা তিন বার পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি আয়কর ও শিক্ষা ক্যাডারের বেশ কয়েকজন উপসচিব তাদের ক্যাডার থেকে আগত জুনিয়র কর্মকর্তাদের দ্বারা সুপারসিডেড হয়েছেন।
এই কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে একপেশে ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে যেসব সরকারি কর্মকর্তাকে পদোন্নতিবঞ্চিত করার মাধ্যমে জনপ্রশাসনে নানাবিধ বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে তা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আগের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গতকালের যুগ্মসচিব প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শুধুমাত্র প্রশাসন ক্যাডারের ২২তম ব্যাচ পর্যন্ত বঞ্চিত উপসচিবদের পদোন্নতি নিশ্চিত করেছে। কিন্তু অন্যান্য ক্যাডারের ১৩তম থেকে ২২তম ব্যাচের পদোন্নতির জন্য যোগ্য ও বঞ্চিত ১৯৫ জন উপসচিবের ন্যায্য দাবি আমলে নেওয়া হয়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনটি পর্যালোচনার বরাত দিয়ে তারা বলেন, প্রশাসনের ২২তম পর্যন্ত ব্যাচের কর্মকর্তা বিসিএস ব্যাচ ২৪ এবং ২৫তম ব্যাচের ক্যাডারদের সঙ্গে যুগ্মসচিব হিসেবে হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। একই প্রজ্ঞাপনে উপসচিব হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের সঙ্গে আসা ৩২ জন ও ২৫তমদের সঙ্গে আসা সাত জনকে যুগ্মসচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। যা অন্যান্য ক্যাডার থেকে আগত উপসচিবদের প্রতি চলমান বৈষম্যের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।








