বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডি থানা এলাকায় আব্দুল মোতালেব (১৪) নামে এক কিশোরী হত্যার অভিযোগের মামলায় গ্রেফতার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর মো. খোকন মিয়া এই রিমান্ডের আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহমেদের আদালতে এই রিমান্ড বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার দিনগত মধ্য রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে শাজাহান খানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিরা দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে দমনের জন্য আসামিদের নেতৃত্বে আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন শুরু করার জন্য পুলিশ, র্যাব ও ১৪ দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন। যার ফলশ্রুতিতে পুলিশ বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলায় নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনীসহ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। এতে শত শত ছাত্র-জনতা মারা যায়। অনেক লোক আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন। বাদীর ছেলে আব্দুল মোতালিব (১৪) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যুক্ত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ আগস্ট ধানমন্ডি থানাধীন এলাকায় জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে এশিয়ার সামনে পাকা রাস্তার ওপর ভিকটিমের ছেলে অন্যান্য ছাত্র ও সাধারণ জনতাদের সঙ্গে অবস্থানকালে আসামিদের পরিকল্পনা ও হুকুমে হত্যার উদ্দেশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ, র্যাব, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় নেতা-কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ শত শত সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং হাত বোমা, পেট্রোল বোমা, রাবার বুলেট। ঘটনাস্থলে অনেক নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা আহত ও নিহত হয়। এর মধ্যে ভিকটিম আব্দুল মোতালিব (১৪) বুকে ও গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।
এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা আব্দুল মতিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।









