বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. শাকিল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৫ অক্টোবর) হাজারীবাগ থানা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।
রবিবার (৬ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট সকাল অনুমান ১১টায় ধানমন্ডির ২৭ নং রোডে মিনা বাজারের সামনে ও আশপাশের এলাকায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এতে সাহেদ আলী (২৭)সহ অনেক ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। এ বিষয়ে ভিকটিমের ভাই শরিফ গত ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রুজু করেন। ওই মামলায় শাকিল হোসেন এজহারনামীয় আসামি।
তালেবুর রহমান আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতার মো. শাকিল হোসেন একজন অস্ত্রধারী কুখ্যাত সন্ত্রাসী। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার মিছিলের ওপর অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ করে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার বাসায় অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। পরে মধুবাজারের হাজী আক্তার হোসেন রোডের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ১টি পিস্তল, ১ রাউন্ড রিভলবারের গুলিসহ ১টি রিভলবার, ১ রাউন্ড ব্যবহৃত রিভলবারের গুলির খোসা, ২টি চাপাতি, ২টি বড় ছোরা ও ১টি রামদা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডের আবাহনী মাঠের বিপরীত পাশে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায়। এতে হাসনাইন আহমেদ নামে একজন নিহত হয়। ওই ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। সেই মামলায়ও শাকিল হোসেন একজন এজহারনামীয় আসামি।
শাকিল হোসেনের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজুর পাশাপাশি নিয়মিত মামলায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।









