তেলাপোকার কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর বসুন্ধরা আসাসিক এলাকায় দায়ের করা মামলায় পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিস কোম্পানির চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামানসহ চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মাসুদ করিমের আদালত তাদের অব্যাহতির আবেদন না মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন– পেস্ট কন্ট্রোল সার্ভিস কোম্পানির এমডি ফরহাদুল আমিন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মোসলেহ উদ্দিন শামীম ও স্প্রে ম্যান মো. টিটু মোল্লা। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বিল্লাল হোসেন এ তথ্য জানান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ আছে, ২০২৩ সালের ২ জুন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার মোবারক হোসেন তুষারের বাসায় তেলাপোকার কীটনাশক দেন ডিসিএস অর্গানাইজেশন লিমিটেডের কর্মীরা। তারা জানান, ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর বাসায় প্রবেশ করা যাবে। কীটনাশক দেওয়ার ৯ ঘণ্টা পর মোবারকের স্ত্রী শারমিন জাহান সন্তানদের নিয়ে বাসায় আসেন। এরপর তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ৩ জুন সকাল ৭টায় শারমিন ও তার দুই সন্তান বমি করেন।
তখন আসামি মোসলেহ উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি জানান, কীটনাশকে এলার্জি ছাড়া অন্য কোনও সমস্যা হবে না। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ালে দুই সন্তান সাময়িক সুস্থবোধ করেন। ওইদিন রাতে তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ৪ জুন ভোর ৪টার দিকে ছোট ছেলে শাহির মোবারত জায়ান অসুস্থবোধ করে। তখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে বড় ছেলে শায়ান মোবারত জাহিন অসুস্থবোধ করলে তাকেও ওই হাসপাতাল নেওয়া হয়। তাকে আইসিইউতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তারও মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ওই বছরের ৫ জুন দায়িত্বে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন তুষার বাদী হয়ে রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে গত বছরের ৩১ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সমীর চন্দ্র সূত্রধর চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বর্তমানে এ মামলার সব আসামি জামিনে রয়েছে।









