সংখ্যালঘুদের সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চায় হিন্দু মহাজোট

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪৭আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ১৭:০২

জাতীয় সংসদসহ সর্বক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি হলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহাজোটের নির্বাহী সভাপতি অ্যাড. প্রদীপ কুমার পাল বলেন, স্বাধীনতার আগে থেকেই বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় দেশীয় ও বৈদেশিক রাজনীতির গ্যাঁড়াকলে পিষ্ট। মাইনরিটি কার্ড এখন রাজনৈতিক দলগুলোর ট্রামকার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী ভারতীয় রাজনীতিবিদ এমনকি আমেরিকার নির্বাচনেও বাংলাদেশের মাইনরিটি ইস্যু তাদের ভোট বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করছে। স্থায়ী সমাধানের কথা কেউ বলছে না। অথচ মাইনরিটি ইস্যু নিয়ে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এক ভীতিময় পরিবেশে বসবাস করছে। প্রতিনিধিত্বহীনতায় হিন্দু জনসংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই এদেশের জনসংখ্যা অনুপাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে মনোনয়ন দেয় নাই। সরকারি হিসাব মতে, ১২ শতাংশ সংখ্যালঘু হলেও সংখ্যালঘুদের ৪২টি আসন পাওয়ার কথা। কিন্তু যৌথ নির্বাচনের কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছরে কোনও সংসদেই হিন্দু সম্প্রদায় তাদের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি পাঠাতে পারে নাই। বিএনপি থেকে মাত্র ১ জন, জাতীয় পার্টি থেকে ২-৩ জন, আওয়ামী লীগ থেকে ৬-১৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) হতে পেরেছে। অর্থাৎ, আগামীর পার্লামেন্ট হিন্দু শূন্য বা নামে মাত্র ২/১ জন থাকার সমূহ সম্ভাবনা।

নির্বাহী সভাপতি বলেন, মাইনরিটি সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। সংখ্যালঘু সমস্যার স্থায়ী সমাধানে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি উজ্জ্বল করতে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা সমুন্নত করতে জাতীয় সংসদসহ সর্বক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জোড় দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

মহাজোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায় বলেন, এখনও সময় আছে। সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি এখনও আমলে নিতে পারেন। হিন্দু সর্বশেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। বর্তমান সরকার যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রাণের দাবি জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকারসহ সব ক্ষেত্রে আসন সংরক্ষণ ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা মেনে না নেয় তাহলে হিন্দু সম্প্রদায় কোনও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না এবং ভোট কেন্দ্রে যাবে না। অন্যকে ক্ষমতায় বসানোর হাতিয়ার হওয়ার জন্য এবং শুধু শুধু মারধর খাওয়া আর বাড়িঘর ছেড়ে পালানোর জন্য হিন্দু সম্প্রদায় আগামী কোনও নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান সমন্বয়কারী বিজয়কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি দুলাল কুমার মণ্ডল, তরুণ কুমার ঘোষ, নিতাই দে প্রমুখ।

/এএজে/এমএস/
সম্পর্কিত
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
এআইকে ফাঁকি দিতে নয়, ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান
একটি গোষ্ঠী সরকার ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে: রিজভী
সর্বশেষ খবর
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী