চবিতে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারাদেশ ও প্রক্টরের মন্তব্যের প্রতিবাদ ১৫৪ বিশিষ্টজনের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:৩৮আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০০:৩৮

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ১০ জন নারী শিক্ষার্থীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার এবং প্রক্টরের যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশের ১৫৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক বিবৃতি দিয়েছেন। তারা এই বহিষ্কারাদেশকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত বিবৃতিতে নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একটি অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এছাড়া, বহিষ্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন এবং যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন যা প্রশাসনিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একদল ছাত্র মধ্যরাতে ছাত্রী হলের সামনে নৌকার ভাস্কর্য ভাঙতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকে। এ সময় একজন সহকারী প্রক্টর ছাত্রীদের গালিগালাজ করেন এবং তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে।

এছাড়া, ফেসবুকে ছাত্রীদের বিরুদ্ধে স্লাট-শেমিং করা হয় যা প্রশাসন উপেক্ষা করে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের হেনস্তা, একজন নারী শিক্ষার্থীর ওপর সহকারী প্রক্টরের শারীরিক নির্যাতন, দুইজন প্রক্টরের অশালীন মন্তব্য, এবং ফেসবুকে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ আক্রমণের ঘটনার তদন্ত হয়নি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নাগরিকরা এই বহিষ্কারাদেশ দ্রুত প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা, এবং প্রক্টরের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য হুমকিস্বরূপ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং ছাত্র-ছাত্রীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা গণতান্ত্রিক চেতনা বজায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

/এবি/এমএস/
সম্পর্কিত
আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জামায়াতের প্রতিবাদ
ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত দোসর: জামায়াত
নাসীরুদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা 
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের