মৌলভীবাজারের মুক্তিযোদ্ধা অনু মিয়ার যুদ্ধের গল্প

রজত কান্তি গোস্বামী,মৌলভীবাজার
২৭ মার্চ ২০১৬, ১২:৫৮ আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৬, ১২:৫৮

মৌলভীবাজারের মুক্তিযোদ্ধা অনু মিয়ার যুদ্ধের গল্প মুক্তিযোদ্ধা মো. অনু মিয়া। ১৯৭১ সালে ছিলেন ২৫ বছরের যুবক। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার বালিসহস্র গ্রামে হলেও তিনি রাজনীতি করতেন বলে শহরে থাকতেন।

তিনি  মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে ৪ নং সেক্টরের অধীনে ৫ নং সাব-সেক্টরে যুক্ত হয়ে যুদ্ধ করেন। ৫ নং সাব সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন লেফট্যানেন্ট ওহাহিদুজ্জামান। এই সাব-সেক্টরের সদর দফতর ছিল মৌলভীবাজারের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কৈলাশহর।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানী বাহিনী নিরিহ বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি প্রথমে তার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে  সেখান থেকে ২৭ মার্চ দুটি মিছিল নিয়ে তারা মৌলভীবাজার শহরের দুই প্রান্ত দিয়ে শহরের দিকে যান। মিছিল দুটির একটি পূর্বদিক থেকে চাঁদনীঘাট এলাকা পর্যন্ত এসেছিল। অন্যটি এসেছিল পশ্চিম দিক থেকে শাহবন্দর পর্যন্ত এসেছিল। পূর্ব দিক থেকে আসা  মিছিলে ছিলেন অনু মিয়া।  দুটি মিছিলেই পাকিস্তানী বাহিনীরা গুলি চালায়। পূর্ব দিকের মিছিলের অগ্রভাগে থাকা লুন্দুর মিয়া শহীদ হন। অপর দিকে পশ্চিম দিকের মিছিলের জমির আলী ও তারা মিয়া শহীদ হন। এই তিনজন হলেন মৌলভীবাজার জেলার প্রথম শহীদ।

এরপর তার বন্ধুদের অনেকেই ভারতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এপ্রিলের ২৫ (১৯৭১) তারিখ তিনি ভারতের পথে রওয়ানা দেন।  ভারতে গিয়ে প্রথম দুই দিন তিনি কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। তৃতীয় দিন খবর পেলেন ত্রিপুরার কৈলাশহরে মৌলভীবাজারের কয়েকজন নেতা আছেন। তিনি সেখানে গেলে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ নেতা আক্তার আহমেদ তাকে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য ট্রেনিংয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সেখানে তাদের ট্রেনিং হওয়ার কথা ছিল ৩ মাস। কিন্তু ২ মাসেই ট্রেনিং শেষ হয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় রাতাছড়া (ত্রিপুরা) রেস্ট ক্যাম্পে। এই রাতাছড়া ক্যাম্পে অনু মিয়ার মতো আরও কয়েকশ যোদ্ধা ট্রেনিং শেষ করে যুদ্ধে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা  করছিলেন।

পরে সত্তুর জনের একটি দলের সঙ্গে তিনিও সেপ্টেম্বর মাসে ভারতের খোয়াই মহকুমা দিয়ে হবিগঞ্জ জেলার তেলিয়াপাড়া হয়ে মৌলভীবাজার জেলার  সাত গাওয়ের গঙ্গেশ বাবুর টিলাতে এসে ক্যাম্প করেছিলেন। কিন্তু দলের  কয়েকজন পাক সেনাদের হাতে ধরা পড়ে তাদের তথ্য দিয়ে দেওয়ায় তারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন। সহযোদ্ধাদের কেউ কেউ শান্তি কমিটির লোকজনদের সঙ্গে আপোস করে পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণও করেছিলেন।

অনু মিয়া জানান,মৌলভীবাজারের সবচেয়ে বড় রাজাকার অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন চৌধুরীকে হত্যা করতে গিয়ে তার ভাই আব্দুল্লাহ মোক্তার তাকে ধরে ফেলেছিলেন। তিনি অনুমিয়াকে পাকিস্তানী সৈন্যদের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু তার পকেটে শান্তি কমিটির দেওয়া কার্ড থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান। গেরিলা যুদ্ধ করতে এসে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তিনি ওই কার্ড রাজনগর থানার আশ্রাকাপন গ্রামের শান্তি কমিটির নেতা রফিক চৌধুরীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে নিয়ে ছিলেন।

এদেশে যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের বিচার হবে, ১৯৭৫ সালের পর দেশে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে বিশ্বাস করতে পারেননি।  এখন রাজাকারদের বিচার হচ্ছে, শাস্তি কার্যকর হচ্ছে দেখে তিনি খুশী।

বর্তমানে তিনি গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ছেলেদের বউ নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করেন। এক ছেলে বিদেশে থাকে। একমাত্র মেয়ে ¯ স্নাতকোত্তর পাশ করে স্বামীর সাথে বসবাস করছে। অনু মিয়ার আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল। তিনি রাজনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য।

/জেবি/

সম্পর্কিত
বিশ্বের সর্বোচ্চ শিখরে ফের উড়লো বাংলাদেশের পতাকা
অযত্ন-অবহেলায় সর্ববৃহৎ গণহত্যার স্থান, ৫৪ বছরেও হয়নি স্মৃতিসৌধ
নানা আয়োজনে রাজধানীবাসীর বিজয় উদযাপন
সর্বশেষ খবর
উৎসবের মিষ্টিতে এবার রসগোল্লার পায়েস
উৎসবের মিষ্টিতে এবার রসগোল্লার পায়েস
বাবা-মায়ের সাথে পূজা দেখতে বেরিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিশু ভাইবোনের
বাবা-মায়ের সাথে পূজা দেখতে বেরিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিশু ভাইবোনের
নবমীতে অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি, বাজবে বিদায়ের সুর  
নবমীতে অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি, বাজবে বিদায়ের সুর  
বার্সেলোনাকে হারানোর ছক কষছেন এনরিকে
বার্সেলোনাকে হারানোর ছক কষছেন এনরিকে
সর্বাধিক পঠিত
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক