বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের তালিকা প্রণয়ন, তাদের সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশটি পাঠানো হয়েছে পররাষ্ট্র, অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) কাছে।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ‘জনস্বার্থে’ মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’-এর পক্ষে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব।
নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও বিদেশি নাগরিককে নিয়োগ দেওয়া যায় না এবং তাদের নির্ধারিত হারে কর প্রদান বাধ্যতামূলক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর গাফিলতির কারণে বহু বিদেশি নাগরিক সরকারি অনুমতি ছাড়াই দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, অফিস, আদালত এবং গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করছেন।
সরকারি রেকর্ডে তাদের কোনও তথ্য না থাকায় তারা আয়কর দিচ্ছেন না। এর ফলে প্রতিবছর বাংলাদেশ কমপক্ষে ১৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন পত্রপত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে কর্মরত রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে বছরে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হচ্ছে।
২০২৩ সালের আয়কর আইনের ১১৯ ধারা অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকদের তাদের আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সরকারি রেজিস্ট্রেশনের অনুপস্থিতিতে কর আদায় সম্ভব হচ্ছে না।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ২০২০ সালে এ সমস্যা সমাধানে ৯ দফা সুপারিশ করেছিল, কিন্তু এখনও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জনস্বার্থে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বারবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় কোনও অগ্রগতি হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতেই এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশদাতা মনে করেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সাত দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’ জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।








