উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন ৪৪ জন। তাদের মধ্যে ৩ জন মারা গেছেন। চিকিৎসাধীন বেশির ভাগের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক মো. নাসিরউদ্দিন।
এদিকে কয়েকজন উপদেষ্টা ও রাজনীতিক আহতদের দেখতে এলে হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাদের প্রটোকল এবং সঙ্গে থাকা লোকজনের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়। এছাড়া হাসপাতালের সামনে জনতার ভিড়ে নাস্তানাবুদ নিরাপত্তা কর্মীরা। সোমবার (২১ জুলাই) রাত ৯টা ২২ মিনিটে সরেজমিন এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। ভিড়ের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়।
নিরাপত্তাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা শত অনুরোধের পরেও ভিড় কমেনি উৎসুক জনতার। নিরাপত্তাকর্মী সজীব হোসেন বলেন, উৎসুক জনতার কারণে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। আমরা অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা সড়কে ভিড় করে আছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসার পরেও সড়ক ছাড়ছেন না। রাস্তার ওপরে এবং দুপাশে দাঁড়িয়ে আছেন।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়ার বাবা বলেন, ‘আমি দুপুর ১টা ৪ মিনিটে স্কুলে গিয়েছি, আমার বাচ্চাকে আনতে। এরপর আমার বড় ছেলে ফোন দিয়ে বললো—ওর (সামিয়া) ছুটি দুইটায়। এ কথা শুনে আমি গেট থেকে একটু সরেছি। এর মধ্যেই ওই প্লেনটা এলো। প্লেনটা এসেই ভবনের ওপর পড়লো। তখন একটা বিকট শব্দ শুনেছি। এরপরই দেখি আগুন।
সামিয়ার বাবা আরও বলেন, নিজের চোখে আমার মেয়েকে পুড়তে দেখলাম। আমি নিজে আমার মেয়েকে ভবনের রড ভেঙে বের করেছি। আল্লাহ জানেন কী হবে। তবে চিকিৎসক আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে সামিয়াকে ওখানকার (উত্তরার) একটা মেডিক্যালে নিয়ে যাই। সেখানে আরও করুণ অবস্থা। এত রোগী, ডাক্তাররা পেরে উঠছেন না। অনেক রোগী, অনেক শিশু। তারপর সেখান থেকে বার্নে নিয়ে আসছি।
বার্ন ইনস্টিটিউটে দগ্ধ রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট, বাঁধন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জোন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ছাত্রদল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা।
এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ মুহূর্তে রক্তের প্রয়োজন নেই। তবে যারা রক্ত দিতে ইচ্ছুক, তাদের নিবন্ধন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রক্তের প্রয়োজন হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।








