ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ৫৬ কোটি টাকা ঋণ খেলাপির মামলায় বাফুফের সহ-সভাপতি ও কে স্পোর্টসের মালিক ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম ওরফে ফাহাদ করিমসহ তার স্ত্রী মিসেস নোরা লাহলালির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন অর্থঋণ আদালত।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) শুনানি শেষে ঢাকার ৫ নাম্বার অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, অর্থঋণ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছিল। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে তারা উপস্থিত হননি। এজন্য গত ১৭ এপ্রিল ইউসিবি ব্যাংক থেকে কেন আসামিদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর আদেশ দেওয়া হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, আসামিদের কর্তৃক গৃহীত ঋণের বিপরীতে কোনও স্থাবর সম্পত্তি ইউসিবি ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ নেই। আসামিদের পার্সোনাল গ্যারান্টিতে এবং ট্রাস্ট রিসিটের ভিত্তিতে এ ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল। বিগত ৭ বছর ধরে জনগণের বিপুল পরিমাণ আমানতের টাকা আসামিরা উপভোগ করে চলেছেন। আসামিরা দেশে বিদেশে বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাই নানাবিধ আর্থ সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও ইউসিবি ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধে চরম অবহেলা দেখিয়েছেন। আসামিদের যথেষ্ট আর্থিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকের পাওনা পরিশোধ না করায় আসামিরা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফাহাদ করিমের স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে আরও খেলাপি ঋণের মামলা চলমান আছে। আসামিরা বিপুল পরিমাণ ঋণ পরিশোধ এড়াতে দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তাই বাদীপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আসামিরা যেন আদালতের অনুমতি ব্যতীত দেশত্যাগ করতে না পারেন তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপারকে (ইমিগ্রেশন) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ৫৬ কোটি ৬৫ লাখ ৬০ হাজার ৩৯৮ টাকা ঋণ নেন আসামি ফাহাদ করিম। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ ঋণ পরিশোধ করেনি। এজন্য খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি ফাহাদ করিমের বিরুদ্ধে অর্থঋণ আদালতে মামলাটি দায়ের করে ইউসিবি ব্যাংক।








