২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে ২০টি। আর এ বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাল্যবিবাহের ঘটনা ৬১টি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ছয় মাসে তিনগুণ বেড়েছে বাল্যবিবাহ। গত বছরের সঙ্গে এ বছরের ছয় মাসের তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়—এ বছর বাল্যবিবাহ, যৌতুক এবং যৌন নিপীড়ন বেড়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম মুনিরা খান মিলনায়তনে “বাংলাদেশে নারী ও কন্যা নির্যাতন চিত্র ২০২৪ সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন’’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সিনিয়র প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে ধর্ষণ হয়েছে ৩৬৪টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১৪৮টি, ধর্ষণের পর হত্যা ২১১টি, যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণ ২২৪টি, যৌতুক ৬৮টি, গৃহকর্মী নির্যাতন ২৪টি আর সাইবার অপরাধ হয়েছে ২৯টি।
অপরদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ষণ হয়েছে ৩৫৪টি, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১০৬টি, ধর্ষণের পর হত্যা ১২৭টি, যৌন নিপীড়ন ও উত্ত্যক্তকরণ ৩২০টি, যৌতুক ৯৬টি, গৃহকর্মী নির্যাতন ১১টি আর সাইবার অপরাধ হয়েছে ২৬টি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদন বলছে, সব ধরনের সহিংসতার সামগ্রিক হিসাবে দেখা যায়, ১৮ বছরের নিচে ভুক্তভোগীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা কন্যাশিশু ও কিশোরীদের প্রতি সহিংসতার প্রবণতার ভয়াবহতাকে নির্দেশ করে। এই তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায়, কন্যারা (১৮ বছরের নিচে) শারীরিক ও যৌন সহিংসতার সবচেয়ে বড় শিকার।
প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালের নির্যাতনের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে কন্যা ও নারীরা আজও ব্যাপক সহিংসতা, বৈষম্য এবং সামাজিক অনিরাপত্তার শিকার। যৌন সহিংসতা যেমন ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার হার এবং বাল্যবিবাহ কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে অনেক বেশি। নারীদের ওপর যৌতুক ও দলবদ্ধ ধর্ষণের মাত্রা বেশি। উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি উভয় ক্ষেত্রেই কন্যা ও নারী উভয়ের হার উদ্বেগজনক ।









