স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা: ফুফাতো ভাইয়ের যাবজ্জীবন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ আগস্ট ২০২৫, ২৩:৪৩আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ২৩:৪৩

১০ বছর আগে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিবা খাতুন ওরফে ফাতেমাকে অপহরণের পর ধর্ষণ করে হত্যার দায়ে ফুফাতো ভাই সুমন মিঝিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। অপহরণের দায়ে তাকে আরও ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক গোলাম কবীর এ রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সাজ্জাদ হোসেন সবুজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সুমনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস তাকে কারাভোগ করতে হবে। অপহরণের দায়ে দেওয়া ১৪ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মামলার শুরু থেকে এ আসামি কারাগারে আছে। আজ রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ীতে সবুজ বিদ্যাপীঠ উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল ফাতেমা। ২০১৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকাল ৩টার দিকে স্কুলের সামনে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। পরে সুমন ফাতেমার পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। নম্বর দেখে তারা জানতে পারেন এটা সুমনের ব্যবহৃত মোবাইর নম্বর।

এ ঘটনায় ফাতেমার মা রোকেয়া বেগম ৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় অপহরণের মামলা করেন। ফাতেমার লাশ পাওয়ার পর মামলাটি ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী খান মাহমুদ জানান, সুমনের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ফাতেমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা চাঁদপুরে থাকতো। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ের কথা বলে সুমন ফাতেমাকে চাঁদপুরে নিয়ে যাচ্ছিল। তারা লঞ্চে একটা কেবিন ভাড়া করে। রাতে ফাতেমাকে ধর্ষণ করে। পরে হত্যা করে। লাশ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয়। চাঁদপুরের হিলশা ঘাট থেকে কয়েকদিন পর ফাতেমার লাশ উদ্ধার হয়।

এদিকে, ওই বছরের ৫ এপ্রিল মামলাটি তদন্ত করে সুমনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন সরকার। এরপর আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ মামলার রায় দিলেন।

ফাতেমার মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার চার ছেলে আর একমাত্র মেয়ে। মেয়েটাকে খুন করেছে। ওর ফাঁসি হয়নি। আমি রায়ে অসন্তুষ্ট।’

/এনএইচ/কেএইচটি/
সম্পর্কিত
দুই সন্তানকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বড় মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে
আইনজীবীর বিরুদ্ধে কললিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ
তনু হত্যা: দুই জনের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
সর্বশেষ খবর
ফের ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান 
ফের ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান 
অস্ত্রধারী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিবি
অস্ত্রধারী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিবি
লেখক পরিচয়ে বেঁচে থাকা আরও কঠিন: মঞ্জু সরকার
জন্মদিনে গ্রন্থোৎসবলেখক পরিচয়ে বেঁচে থাকা আরও কঠিন: মঞ্জু সরকার
বনানীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিদেশি পিস্তলসহ ৫ জন গ্রেফতার
বনানীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে বিদেশি পিস্তলসহ ৫ জন গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
কেন ভারত ছাড়লেন আনুশকা-বিরাট? মুখ খুললেন মাধুরীর স্বামী
কেন ভারত ছাড়লেন আনুশকা-বিরাট? মুখ খুললেন মাধুরীর স্বামী
জেমস-রথীর সেই পুরোনো ছবি, আজ শুধুই স্মৃতি
জেমস-রথীর সেই পুরোনো ছবি, আজ শুধুই স্মৃতি
কওমি বোর্ডের সনদে সরকারি মাদ্রাসার দুই পদে নিয়োগের স্বীকৃতি
কওমি বোর্ডের সনদে সরকারি মাদ্রাসার দুই পদে নিয়োগের স্বীকৃতি
‘বিগত সরকার বাদ দেন’—সংসদে প্রতিমন্ত্রীকে বললেন স্পিকার
‘বিগত সরকার বাদ দেন’—সংসদে প্রতিমন্ত্রীকে বললেন স্পিকার
বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রের ভাস্কর্য
বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো যুক্তরাষ্ট্রের ভাস্কর্য