বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় বলাকা ভবনের ক্যান্টিন লিজ নিয়ে তুঘলকি কারবার চলছে। গত ২৪ মে ক্যান্টিন লিজের দরপত্র আহ্বান করা হলেও গত প্রায় ৪ মাসেও লিজ বরাদ্দ দিতে পারেনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অধীনস্থ ‘শিল্প পার্ক কর্তৃপক্ষ’।
অভিযোগ উঠেছে, শিল্প পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপক আব্দুল খালেক তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সরষে ইলিশ রেস্তোরাঁ’কে কাজ পাইয়ে দিতে কালক্ষেপণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আব্দুল খালেক ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে আবেদন করিয়েছেন এবং বেশি নম্বর দিয়ে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় সবার ওপরে রাখার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার কারণে চার মাস ধরে কাউকেই ক্যান্টিন বরাদ্দ দিচ্ছেন না তিনি।
জানা গেছে, গত ২৪ মে একটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় বলাকা ভবনের জন্য তিন বছর মেয়াদি চুক্তিতে ক্যান্টিন পরিচালনায় অভিজ্ঞ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন চাওয়া হয়। আবেদনের যোগ্যতা হিসেবে সরকারি-বেসরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে অন্তত ২০০ জনের ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনার সক্ষমতা থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া কমপক্ষে ৫০০ বর্গফুট আয়তনের ২০০ জনের আসনবিশিষ্ট ক্যান্টিন পরিচালনারও চার বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই দরপত্রটির গত ৩০ জুনের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।
জানা যায়, দরপত্র আহ্বানের পর ১৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এর মধ্য অন্যতম প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সরষে ইলিশ রেস্তোরাঁ, মেসার্স এস এ এন্টারপ্রাইজ, স্পাইসেস লিমিটেড, ময়মনসিংহ অ্যাগ্রো, কাশবন রেস্তোরাঁ, স্টার কাবাব হাইওয়ে চাইনিজ, পর্না এন্টারপ্রাইজ, ইনায়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, সফটওয়্যার নেটওয়ার্ক, পাইলট গ্যালারি, আল আতসা ক্যাটারিং এবং এন এস ট্রেড ভিশন।
অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থেকে সর্বনিম্ন দরদাতা ও তাদের অভিজ্ঞতার সব দিক বিবেচনা করে গত ৩০ জুনের ক্যান্টিন বরাদ্দ দেওয়ার কথা। কিন্তু গত দুই মাসেও লিজের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
শিল্প পার্কের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক ‘সরষে ইলিশে রেস্তোরাঁকে’ সবার ওপরে রেখে তাদেরই লিজ দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অংশগ্রহণকারী ঠিকাদাররা বলছেন, ব্যবস্থাপক আব্দুল খালেক তার পছন্দের প্রতিষ্ঠান ‘সরষে ইলিশে রেস্তোরাঁকে’ লিজ দেওয়ার জন্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে নানা তদবির করেছেন। কিন্তু সেটা না পেরে এখন পর্যন্ত কাউকেই ক্যান্টিন লিজ দেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা নিয়ম মেনে এই দরপত্রে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু শিল্প পার্ক কর্তৃপক্ষের ম্যানেজার আব্দুল খালেক তার পছন্দের অভিজ্ঞতাহীন এক প্রতিষ্ঠানকে ক্যান্টিন বরাদ্দ দেওয়ার জন্য এই টেন্ডার আটকে রেখেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।’
টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বানের দাবি করেন এই ঠিকাদার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঠিকাদার বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আব্দুল খালেক কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়েছেন। এ কারণে ক্যান্টিনটি এখনও কাউকে বরাদ্দ দেননি তিনি। এই ঠিকাদারও বর্তমান টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডার আহ্বানের দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে শিল্প পার্কের ব্যবস্থাপক আব্দুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি টেন্ডারটি সম্পন্ন করার। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘সরষে ইলিশ রেস্তোরাঁ’কে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র এবিএম রওশন কবীর বলেন, ‘এ রকম অভিযোগ উঠে থাকলে আমরা খতিয়ে দেখবো।’









