২০২৪ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জুলাইযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে হচ্ছে এবারের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। প্রথমবারের মতো জেন-জিদের ভোট প্রদানের মধ্যে দিয়ে ডাকসুতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে আজ। এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিগত সময়ে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র সংগঠনগুলোর মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল, বামপন্থি কয়েকটি সংগঠনের সমন্বয়ে ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’, ছাত্র শিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সমর্থিত বিনির্মাণ পর্ষদ (আংশিক), সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ, উমামা ফাতেমা নেতৃত্বাধীন ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের প্যানেল, ছাত্র অধিকার পরিষদের ‘ডাকসু ফর চেঞ্জ’ প্যানেল, ‘অপরাজেয় ৭১-অদম্য ২৪’ প্যানেল।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ডাকসুর এই ভোটগ্রহণ চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ চলবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোট ৮টি কেন্দ্রে একযোগ ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রগুলো হলো- কার্জন হল কেন্দ্র, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্র, সিনেট ভবন কেন্দ্র, উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্র এবং ইউনিভার্সিটি ল্যাব স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই প্রতিবেদন লেখার সময় প্রথম তিন ঘণ্টায় প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোট দিয়েছেন।
সকাল ৮টার আগেই ভোটকেন্দ্রে চলে আসেন প্রার্থীরা। উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট দিয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম। এছাড়াও শিবির সমর্থিত সহ-সভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী আবু সাদিক কায়েম, শিবির সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ ও শিবির সমর্থিত সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদপ্রার্থী মুহা. মহিউদ্দিন খানসহ বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থী এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।
সকাল ৮টা ১০ মিনিটে উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আমরা আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, শিক্ষার্থীরা ছাত্রদলের পুরো প্যানেলকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। কারণ আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, সেটা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
শিবির সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম বলেন, ‘ভোটের পরিবেশ এখনও বোঝা যাচ্ছে না। তবে আশা করি সবাই মিলে সুন্দর একটা নির্বাচন উপহার দেবো। কারণ জুলাই আন্দোলনে আমরা সবাই একসঙ্গে ছিলাম। জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু আমরা সবাই জয়ী হবো। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।’
এর ঘণ্টা খানেক পর সাদিক কায়েম অভিযোগ করে বলেন, ‘কেন্দ্রের আশপাশে ডেস্ক বসিয়ে ও ১০০ মিটারের মধ্যে স্লিপ দিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে ছাত্রদল। এ নিয়ে চিফ রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে।’
ডাকসুতে ভোট দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
সকাল ৮টা থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সামনে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি লক্ষ করা যায়। সকাল ৯টায় কার্জন হলে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। কার্জন হল কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৮টায় ভোট দিতে আসা ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জীবনে প্রথম এবার ভোট দিচ্ছি। তাও আবার ডাকসু নির্বাচন দিয়ে শুরু। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সুন্দর ও সুষ্ঠু একটা নির্বাচন উপহার দেবে।’
শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী পার্থ বলেন, ‘এবারের নির্বাচনি ইশতেহার সবাই মোটামুটি কাছাকাছি দিয়েছেন। কমবেশি সবাই শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নারী সুরক্ষার বিষয়কে প্রায়োরিটি দিয়েছেন। আমরা আশা করি যে নির্বাচিত হবেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবেন।’
সিনেট ভবন কেন্দ্রে বিজয় একাত্তর হলের রাকিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। কারণ এর মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো কেউ থাকবে। আমাদের সুখ-দুঃখ দেখার বা খোঁজ-খবর নেওয়ার মানুষ থাকবে।’ প্রতিবছর ক্যালেন্ডারের শিডিউল অনুযায়ী ডাকসু নির্বাচন চান তিনি।
ভোটার, প্রার্থী ও নারী প্রার্থীর সংখ্যা
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এ মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৬৩৯ জন। তাদের মধ্যে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন নারী ভোটার। যা ভোটারের ৪৮ শতাংশ। ডাকসুর ২৮টি পদে মোট প্রার্থী আছেন ৪৭১ জন। তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ১৩ শতাংশ। এবার ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে মোট প্রার্থী ৪৫ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ৫ জন। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী ১৯ জন, সেখানে মাত্র ১ জন নারী।
ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন প্যানেল ও ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা
সকাল ৯টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে দেখা যায় শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের সামনে। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। বিগত সময়ে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সব সময় সোচ্চার ছিলাম। আশা করি শিক্ষার্থীরা আমাদের পুরো প্যানেলকে জয়যুক্ত করবে।’
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে আছেন যারা
ডাকসু নির্বাচনের জন্য ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা করা হয়। প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সাহায্য করতে আরও ৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা হলেন—মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম মহিউদ্দিন, সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক শারমীন কবীর।
ভোট কারচুপির অভিযোগ বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের
দুপুর ১২টার দিকে ভোট কারচুপি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি একুশে হলে আগে থেকেই ব্যালট পূরণ করে রাখা হয়েছে। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা এবং চিফ রিটার্নিং অফিসার জড়িত ছিলেন। আবার শুনতে পেয়েছি শামসুন্নাহার হলের একটা বড় অংশের শিক্ষক একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে একটা পোস্টার তৈরি করেছে। তো এই যে কারচুপির আশঙ্কার কথা, এটা কিন্তু আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছিলাম।’
আবু বাকের আরও বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি ইলেকশনে দায়িত্বশীলরা একচেটিয়া একটি দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে। এটা আমাদের একজন সাংবাদিক নিশ্চিত করেছেন। সব মিলিয়ে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংসদ থেকে ভোট কারচুপির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করবো। বাকি তথ্য-প্রমাণ সেখানেই দেওয়া হবে।’
এদিকে নির্বাচন চলাকালে কার্জন হলের দ্বিতীয় তলায় অমর একুশে হলের ভোটকেন্দ্রে একজন শিক্ষার্থীকে অনিচ্ছাকৃতভাবে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পোলিং অফিসার জিয়াউর রহমানকে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ভিপি, জিএস এবং এজিএস হিসেবে যাদের এগিয়ে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা
ডাকসু নির্বাচনের ৬টি কেন্দ্র ঘুরে শতাধিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, তাদের বিবেচনায় ভিপি পদে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের মো. আবিদুল ইসলাম খান, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের আব্দুল কাদের, উমামা ফাতেমা এবং শিবির সমর্থিত আবু সাদিক কায়েম।
অন্যদিকে জিএস পদে এসব শিক্ষার্থীর বিবেচনায় এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের শেখ তানভীর বারী হামিম এবং শিবির সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী এস এম ফরহাদ। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শিবির সমর্থিত সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদ শিবিরের মুহা. মহিউদ্দিন খান এবং ছাত্রদলের তানভীর আল হাদি মায়েদের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
ডাকসুকে ক্যালেন্ডার ইভেন্ট করার দাবি শিক্ষার্থীদের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এবার ডাকসু সুষ্ঠু না হলে আর কখনোই হবে না। এমনকি এই ধরনের পরিবেশও পাওয়া যাবে না। ডাকসুকে ক্যালেন্ডার ইভেন্ট করার জন্য এবারের ডাকসু সুষ্ঠু সুন্দর হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যারা ভোট শুরু হতে না হতেই ভোট বর্জনের ডাক দেবে তাদের সন্দেহের চোখে দেখুন। আপনার ভোট গুরুত্বপূর্ণ, সবাই উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন।’
নিরাপত্তার বিষয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভবঘুরের সংখ্যা অন্যদিনের তুলনায় বেশি। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গতকাল রাতে নকল আইডি কার্ডসহ আটক হয়েছেন ২ জন। আমরা চাই ডাকসুতে যেই জিতুক ভোট সুষ্ঠু হতে হবে। যেকোনও ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে বহিরাগত দেখলেই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’
কড়া নিরাপত্তার চাদরে ক্যাম্পাস
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি অপারেশনস মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, নির্বাচনের জন্য কোনও ঝুঁকি নেই। গতকাল ভোর ৬টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।
নির্বাচন উপলক্ষে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত প্রাঙ্গণে প্রবেশে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ক্যাম্পাসের ৮টি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।









