ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের নথিপত্র তলব দুদকের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:৩৪আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৮:৩৪

ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত এবং ব্যাংক হিসাবের নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত ১৬ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান এসব নথিপত্র তলব করে ইস্টার্ন ব্যাংক ও মিডল্যান্ড ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। 

বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।

ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৪৬ ব্যাংক হিসাবের হিসাবের মাধ্যমে ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

আকতারুল ইসলাম জানান, দুদক থেকে দেওয়া চিঠিতে শওকত আলী চৌধুরী এবং তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে কিংবা তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার ফর্মসহ রেকর্ডপত্র, লেনদেন বিবরণী, জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন, পাসপোর্ট ইত্যাদির কপি চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও শওকত আলী চৌধুরী ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে ঋণের আবেদন, শাখার প্রস্তাব এবং অনুমোদন সংক্রান্ত সব রেকর্ডপত্র ও ঋণ হিসাব বিবরণীও চাওয়া হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এসব নথিপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগ এবং বিএফআইইউ’র গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরীন ও ছেলে জারান আলী চৌধুরীর ২৮টি ব্যাংকে ১৮৭টি হিসাব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইবিএল চেয়ারম্যানের নামে ১৪টি হিসাব, তার স্ত্রীর নামে ১৫টি হিসাব, জারা নামরীনের নামে ৯টি হিসাব এবং মো. জারান আলী চৌধুরীর নামে তিনটি হিসাব এবং তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪৬টি হিসাব পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ জুনের তথ্য অনুযায়ী এসব ব্যাংক হিসাবে ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮২ টাকা জমা করা হয়। যার মধ্যে ৮ হাজার ২৪৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৬০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ওই সময়ে ব্যাংকগুলোতে স্থিতির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৩ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ১৫৮ টাকা। 

হিসাবগুলোর মধ্যে শওকত আলী চৌধুরীর ঢাকা ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখায় পরিচালিত ঢাকা ব্যাংক প্লাটিনাম হিসাবটি ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি খোলেন এবং ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর আবার বন্ধ করে দেন। এই ব্যাংক হিসাবে মোট জমার পরিমাণ ৩৯৮৭ কোটি ৯৬ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ টাকা। মোট উত্তোলনের পরিমাণ মোট ৩৯৮৬ কোটি ২৩ লাখ ২ হাজার ৮৩৫ টাকা। তবে বন্ধকালীন স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৩০ হাজার ৪৩৯ টাকা। এ হিসাব ব্যবহার করে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশনের লেনদেন করেছেন। যা পরোক্ষভাবে ট্যাক্স ফাঁকির উদ্দেশে করা হয়ে থাকতে পারে বলে বিএফআইইউ মনে করছে।

শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যের নামে সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে দুটি বাড়ি ও অন্য দুদেশের সম্পদের তথ্যগুলো বিএফআইইউ তদন্ত করছে বলে জনা গেছে। গত ৩০ জুন শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করে বিএফআইইউ। এখন পর্যন্ত সেগুলো জব্দ অবস্থায় রয়েছে।

/জেইউ/এমকেএইচ/
সম্পর্কিত
দুদকে নতুন চেয়ারম্যান-কমিশনারদের যোগদান
দুর্নীতির মামলা: সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে প্রথম দিনেই সাক্ষ্য হয়নি
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান
সর্বশেষ খবর
এবার খুলনায় ফুটবল খেলা নিয়ে যুবককে গুলি করে হত্যা
এবার খুলনায় ফুটবল খেলা নিয়ে যুবককে গুলি করে হত্যা
কোস্ট গার্ডে নতুন মহাপরিচালক
কোস্ট গার্ডে নতুন মহাপরিচালক
এক জেলার ৬ ভূমি কর্মকর্তার শাস্তি, বেতন বৃদ্ধি-পদোন্নতি বন্ধ
এক জেলার ৬ ভূমি কর্মকর্তার শাস্তি, বেতন বৃদ্ধি-পদোন্নতি বন্ধ
হামের উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু
হামের উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার, এক উপজেলার ইউএনও বদলি
নাটোরের ডিসি প্রত্যাহার, এক উপজেলার ইউএনও বদলি
আরেক কনেকে বিয়ে করলেন সেই প্রবাসী, পাতে পেলেন আস্ত খাসি
আরেক কনেকে বিয়ে করলেন সেই প্রবাসী, পাতে পেলেন আস্ত খাসি
ঢাকায় বাবার লাশ মুন্সীগঞ্জে মায়ের মুক্তির জন্য দৌড়াচ্ছেন দীপু মনির মেয়ে
ঢাকায় বাবার লাশ মুন্সীগঞ্জে মায়ের মুক্তির জন্য দৌড়াচ্ছেন দীপু মনির মেয়ে
তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় খুবই সীমিত: সাবেক কূটনীতিক
তারেক রহমানের ভারত সফরের সময় খুবই সীমিত: সাবেক কূটনীতিক
ছুটির দিনে ঘুরতে বের হয়েছিলেন, ধরে পিটিয়ে মেরে ফেললো একদল লোক
ছুটির দিনে ঘুরতে বের হয়েছিলেন, ধরে পিটিয়ে মেরে ফেললো একদল লোক