আলেম-ওলামাদের মেহনত ব্যর্থ হয়নি: ধর্ম উপদেষ্টা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট    
২৪ নভেম্বর ২০২৫, ২৩:১৮আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ২৩:১৮

আলেম-ওলামাদের মেহনত ব্যর্থ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে 'মুসলিম পারিবারিক আইন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ' শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ মসজিদ মিশন এই সেমিনারের আয়োজন করে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “৫৪ বছর ধরে নিপীড়ন, নির্যাতন, নিগ্রহের পরেও ইসলামি শক্তি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছে। পূর্ব দিগন্তে নতুন সূর্য উঁকি দিচ্ছে, ওঠা বাকি মাত্র। এখন আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে।”

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন সম্পর্কে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “এ আইনের অনেক ধারা সরাসরি ইসলামি শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক। সে সময় যারা ওলামায়ে কেরাম ছিলেন তারা এ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম করেছেন, কিন্তু তারা পারেননি। তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খান অনেকটা গায়ের জোরে এই আইন পাস করেন।”

“হিল্লা বিয়ে” শরিয়তে হারাম উল্লেখ করে ড. খালিদ বলেন, “তালাকের যথেচ্ছ ব্যবহার হয়ে থাকে। স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর বাচ্চারা কাঁদে, স্বামী কাঁদে। তালাক দেওয়া স্ত্রীকে আবার ফিরিয়ে আনতে চায়। এ সময় এক শ্রেণির মানুষ শরিয়তের অপব্যখ্যা দিয়ে নারীদেরকে হিল্লা বিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা চালান। এটা নারীর প্রতি অবমাননাকর এবং এতে ইসলামের ওপর আঘাত আসে।”

'আমরা কীভাবে দণ্ড আরোপ করি'-এমন প্রশ্ন রেখে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “ইসলামি শরিয়তে দণ্ডবিধি আরোপের ক্ষমতা কোনও আলেম কিংবা মুফতির নেই। তারা কেবল ফতোয়া দেবেন, কুরআন-হাদীসের বর্ণনা তুলে ধরবেন। বিচার করবে আদালত। আদালত রায় কার্যকর করবে প্রশাসন।” এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

শরিয়াহ আইন প্রচলনের দাবির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, “এ দাবি ৫৪ বছর ধরে করে এসেছি। দাবি জানাতে কোনেও আপত্তি নেই। তবে যতদিন পর্যন্ত সংসদের অধিকাংশ আসন শরিয়ত মেনে চলে, এমন মানুষ দিয়ে ভর্তি না হবে, ততদিন দাবি জানিয়ে কোনও লাভ হবে না। এজন্য দীর্ঘ মেয়াদি প্রজেক্টের দিকে আমাদের এগোতে হবে। শুধু এক বা দু'জনকে দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব নয়।”

বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে 'মুসলিম পারিবারিক আইন: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ' শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. এবিএম মাহবুবুল ইসলাম।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: শামছুল আলম ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

/এসআই/এম/
সম্পর্কিত
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
প্রেমের টানের রহস্যময় পরিণতি, চীনা প্রেমিকসহ আত্মগোপনে মেহেরপুরের তরুণী
দেনমোহর আদায়ের নীতিমালা তৈরির প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল
সর্বশেষ খবর
সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফাঁস ঠেকাতে যা করবেন
সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফাঁস ঠেকাতে যা করবেন
বাংলাদেশ সফরে আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর
বাংলাদেশ সফরে আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর
মার্কিন ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী চীনা ইউয়ান
মার্কিন ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী চীনা ইউয়ান
আগামী বছরের হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কমলো বিমান ভাড়া
আগামী বছরের হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কমলো বিমান ভাড়া
সর্বাধিক পঠিত
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
সচিবালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে ৪ জন কারাগারে, কারণ কী   
সচিবালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে ৪ জন কারাগারে, কারণ কী