কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেটের হোতা হিসেবে অভিযোগ ওঠা আব্দুস সালাম আরেফকে তলব করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাকে প্রতিযোগিতা কমিশনে উপস্থিত থাকার জন্য নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
প্রতিযোগিতা কমিশন সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে কুয়েতে ভিসা প্রসেসিং সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত আব্দুস সালাম আরেফের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও আব্দুস সালাম আরেফের বিরুদ্ধে উড়োজাহাজের গ্রুপ টিকিট মজুত করে উচ্চ মূল্যে বিক্রিরও একটি অভিযোগ এসেছে। এসব ঘটনা তদন্তে একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। ওই দলের আহ্বায়ক করা হয়েছে কমিশনের পরিচালক মোহাম্মদ ইকতিদার আলমকে।
গত ৪ জানুয়ারি পাঠানো ওই নোটিশে বলা হয়, ধার্য তারিখে ইচ্ছাকৃতভাবে হাজির হতে ব্যর্থ হলে বা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে বিবেচিত হবে।
‘প্রতিযোগিতা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিযোগ’ শিরোনামে আরেফকে পাঠানো প্রতিযোগিতা কমিশনের নোটিশে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু আপনার বা আপনার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২ এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা ওই আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং যেহেতু বিষয়টির ওপর কমিশন প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেহেতু আপনাকে স্বয়ং বা মনোনীত প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয় অনুসন্ধান কাজে সহায়তা করতে বক্তব্য দিতে ৮ জানুয়ারি প্রতিযোগিতা কমিশনের হাজির থাকার নোটিশ দেওয়া হল।’
জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার কর্মী কাজের ভিসা নিয়ে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছেন। সিন্ডিকেট নির্ধারিত ভিসা ফি’র বাইরে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে আরেফ মডার্ন ওভারসীজ লিমিটেড ও এয়ার স্পীড প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম আরেফকে। তিনি ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সংগঠন অ্যাসোসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) সভাপতিসহ বিভিন্ন পদে ছিলেন। সর্বশেষ সংগঠনটির সভাপতিও হন। যদিও অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বছরের আগস্টে সরকার আরেফের নেতৃত্বাধীন আটাবের কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক বসিয়েছিল।
রিক্রুটিং এজেন্সি সূত্র জানায়, আব্দুস সালাম আরেফ সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে কুয়েতে কাজের ভিসা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে কয়েক শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে ওই সিন্ডিকেট ভাঙতে এবার উদ্যোগী হয়েছে সরকার।
এ ব্যাপারে আব্দুস সালাম আরেফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ ধরনের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। একটা বড় জায়গায় দায়িত্বে থাকলে প্রতিপক্ষরা নানা ধরনের কুৎসা রটনা করে। এটি তারই একটি অংশ।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আমাকে ডেকেছে। আমি সেখানে গিয়ে জবাব দেবো।








